অনলাইন ডেস্ক ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপড়েন চললেও ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত বছরের শেষ তিন মাসে ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির গোড্ডা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৮ শতাংশ বেড়েছে।
অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে আদানির কেন্দ্র থেকে প্রায় ২২৫ কোটি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ বাংলাদেশে এসেছে। এর ফলে বাংলাদেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহে ভারতের হিস্যা এখন রেকর্ড ১৫.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ১২ শতাংশ। ২০২৩ সালের শুরুর দিকে আদানি পাওয়ার বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে।
উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক শীতলতার মধ্যেই এই বিদ্যুৎ বাণিজ্য সচল রয়েছে। উল্লেখ্য যে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে দুই দেশই ইতোমধ্যে ভিসা পরিষেবা স্থগিত করেছে এবং একে অপরের দূতদের তলব করেছে।
বিদ্যুৎ আমদানির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রয়টার্সকে জানান, মূলত প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট এবং ২০২৬ সালে বিদ্যুতের সম্ভাব্য ৬ থেকে ৭ শতাংশ বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, গ্যাসের অভাব মেটাতে দেশীয় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে এ বছর কয়লা আমদানি আরও বৃদ্ধি করা হবে। তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে কয়লা আমদানি ৩৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ১.৭৩ কোটি টনে পৌঁছেছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশীয় উৎপাদন হ্রাস এবং সঞ্চালন সীমাবদ্ধতার কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ব্যবহার ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশ গ্যাস সংকটের মুখে পড়েছে। এর প্রভাবে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের অবদান গত বছর রেকর্ড ৪২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত এক দশকে গড়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ছিল।
গ্যাসের এই ঘাটতি পূরণে আদানি পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৫ সালে আদানি বাংলাদেশকে রেকর্ড ৮৬৩ কোটি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে, যা মোট সরবরাহের ৮.২ শতাংশ। চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম ২৭ দিনে আদানি মোট বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রায় ১০ শতাংশ জোগান দিয়েছে।
ঢাকার জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন বলেন, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়ে আদানির বিদ্যুৎ এখনও সাশ্রয়ী। গ্যাস সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই বাংলাদেশকে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি আদানির বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
