প্রখ্যাত আমেরিকান কুস্তিগীর ও অভিনেতা হাল্ক হোগান ৭১ বছর বয়সে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার নিজ বাসভবনে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে এনবিসি নিউজ। তার ম্যানেজার ক্রিস ভোলোর বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। টিএমজির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, এক জরুরি ফোন কল থেকে জানা যায় তার হৃদযন্ত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছিল।
হাল্ক হোগান, যার আসল নাম টেরি বোলিয়া, ১৯৭৯ সালে ওয়ার্ল্ড রেসলিং ফেডারেশনে (বর্তমানে WWE) পেশাদার কুস্তি জীবন শুরু করেন। ১৯৮০-এর দশকে তিনি হয়ে উঠেন কুস্তির এক কিংবদন্তি মুখ, যার “হাল্কাম্যানিয়া” নামক ব্র্যান্ড তাকে নিয়ে গিয়েছিল সাধারণ খেলোয়াড়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে জনপ্রিয় সংস্কৃতির আইকনে।
৬ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতা, সোনালী গোঁফ এবং ব্যান্ডানা মাথায় বাঁধা চেহারা তাকে কুস্তি রিংয়ে আলাদা করে তুলেছিল। তার ক্যারিশমা ও অল-আমেরিকান হিরো ইমেজ WWE-কে পারিবারিক বিনোদনের মূলধারায় নিয়ে আসে এবং বিশ্বব্যাপী পরিচিতি এনে দেয়।
রেসলিং রিং ছাড়াও তিনি হলিউডেও নিজের জায়গা করে নেন। ‘রকি থ্রি’, ‘নো হোল্ডস বারড’ এবং ‘বেওয়াচ’-এর মতো সিনেমা ও টিভি শোতে কাজ করেন। ২০০৫ সালে তাকে WWE হ্যাল অফ ফেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তবে হাল্ক হোগানের জীবনে বিতর্কেরও অভাব ছিল না। ২০১৫ সালে এক বর্ণবাদমূলক মন্তব্যের কারণে তাকে WWE থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চান এবং তাকে আবার হ্যাল অফ ফেমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন উন্মুক্ত সমর্থকে পরিণত হন। ২০২৪ সালের রিপাবলিকান জাতীয় সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি মঞ্চে তার জামা ছিঁড়ে ট্রাম্প-ভ্যান্স লেখা ট্যাঙ্ক টপ প্রদর্শন করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “আমাদের নেতার নেতৃত্বে, আমেরিকাকে আবার একত্রিত করব।”
বহু বছরের রেসলিং জীবনের কারণে হাল্ক হোগান বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিনবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং প্রথম স্ত্রী লিন্ডার সঙ্গে তার দুই সন্তান রয়েছে।
তার মৃত্যুতে কুস্তি এবং বিনোদন জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। WWE এক বিবৃতিতে বলেছে, “হাল্ক হোগানের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তিনি ছিলেন এক সময়ের সবচেয়ে পরিচিত সংস্কৃতি আইকন, যার অবদান WWE-কে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দেয়।”
ভক্তরা এখন স্মরণ করছেন সেই ঐতিহাসিক সময়, যখন হাল্ক হোগান কেবল একজন কুস্তিগীর ছিলেন না, বরং ছিলেন এক প্রজন্মের প্রেরণা।