ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে এক নাটকীয় দৃশ্যের জন্ম দিলেন ঋষভ পান্ত। প্রথম দিন পায়ে আঘাত পেয়ে অবসর নেওয়া এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান দ্বিতীয় দিন ব্যথা নিয়ে মাঠে ফেরেন এবং ভারতের স্কোর ৩৫০ পার করাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
আগের দিন ক্রিস ওকসের ফুলটস বল রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বলটা সরাসরি পড়ে নিজের পায়ে। তীব্র যন্ত্রণায় লুটিয়ে পড়েন পান্ত। মোজা খুলতেই দেখা যায়, ডান পায়ে ডিমের আকৃতির ফোলা। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গল্ফ কার্টে করে মাঠের বাইরে নেওয়া হয় এবং স্ক্যান করানো হয়। যদিও বিসিসিআই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, ESPNcricinfo জানিয়েছে পায়ে চিড় ধরা পড়েছে এবং তিনি সিরিজের শেষ টেস্ট থেকে ছিটকে পড়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় দিনে যখন ভারত ৩১৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বসেছে, তখন হঠাৎই মাঠে নেমে পড়েন পান্ত। শার্দুল ঠাকুর ও ওয়াশিংটন সুন্দর মিলে ষষ্ঠ উইকেটে ৪৮ রান যোগ করার সময় থেকেই দেখা যাচ্ছিল, ড্রেসিংরুমে পান্ত সাদা পোশাকে প্রস্তুত। লাঞ্চের ঠিক আগে, গ্যালারির করতালির মাঝে ব্যথা নিয়েই মাঠে নামেন তিনি।
দৌড়ে রান নেওয়ার ক্ষমতা না থাকলেও স্ট্রাইক ধরে রেখে টিকে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যান পান্ত। তার উপস্থিতিতে ভারতীয় ইনিংসে যোগ হয় আরও ৩৫ রান। ১৪টি সিঙ্গেল রান নেন তিনি। ওয়াশিংটনের আউটের পর জোফ্রা আর্চারের স্লো বল তুলে ছক্কা হাঁকান পান্ত। এই ছক্কাটি ছিল তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ৯০তম, যা তাকে ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানো ব্যাটসম্যানদের তালিকায় বীরেন্দ্র শেওয়াগের পাশে নিয়ে যায়। শেওয়াগ যেখানে খেলেছেন ১০৩টি টেস্ট, পান্ত তা করেছেন মাত্র ৪৭টি টেস্টেই।
শেষ পর্যন্ত আর্চারের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হন পান্ত। রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে আসা বলটি অফ স্টাম্প উপড়ে ফেলে। তবুও পান্তের এই সাহসী ইনিংস দর্শকদের মধ্যে প্রশংসার ঝড় তোলে। ম্যাচটি যতটা ক্রিকেটীয়, তার চেয়েও বেশি ছিল মানসিক সাহসের উদাহরণ।
বর্তমানে ধ্রুব জুরেল উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ভারতীয় শিবিরে পান্তের এই সাহসিকতা নিশ্চয়ই অনুপ্রেরণার এক বড় উৎস হয়ে থাকল।