Sunday, August 31, 2025
Homeআন্তর্জাতিককাঁধে জলভরা কলস, শহরে প্রবেশ করছে হাজারো কাওয়ারিয়া, শঙ্কা যানজট ও শব্দদূষণের

কাঁধে জলভরা কলস, শহরে প্রবেশ করছে হাজারো কাওয়ারিয়া, শঙ্কা যানজট ও শব্দদূষণের

দিল্লিতে শুরু হচ্ছে কাঁভার যাত্রা, সীমান্ত ও প্রধান সড়কে চলছে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, তবুও নাগরিকদের ভোগান্তির আশঙ্কা

দিল্লির রাস্তায় আবারও শুরু হয়েছে কাঁভার যাত্রা। রবিবার থেকে হাজার হাজার কাওয়ারিয়া পায়ে হেঁটে রাজধানীতে প্রবেশ শুরু করেছে। এর ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে যানজট তৈরি হয়েছে এবং নাগরিকদের মধ্যে শব্দদূষণ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

শহরের বিভিন্ন প্রান্তে কাওয়ারিয়াদের জন্য মোট ৩৭৪টি শিবির স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক শিবির হাসপাতালের সামনেও বসানো হয়েছে, যা প্রতিবছরই ‘বুমবক্স’ নিয়ে বিতর্কের জন্ম দেয়। যদিও পুলিশ ও পরিবহন কর্তৃপক্ষ অনুমোদনহীন উচ্চশব্দ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিয়েছে, তবুও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না বলেই অভিযোগ এলাকাবাসীর।

রাজা গার্ডেনের বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী আশা পুরি বলেন, “এখনও সহনীয় পর্যায়ে আছে, কিন্তু যাত্রা শুরু হলে রাতে ঘুমানো যায় না। পুলিশকে বললেও তারা অসহায়ত্ব প্রকাশ করে।”

নিউ ফ্রেন্ডস কলোনির আরডব্লিউএ নেত্রী চিত্রা জৈন বলেন, “আমার বাসা মূল রোডে না হলেও জানালার কাচ কাঁপে। গত বছর অবস্থা খুব খারাপ ছিল। এবার আশাবাদী যে আওয়াজ কিছুটা কম থাকবে।”

ফ্রেন্ডস কলোনি ইস্টের সচিব ত্রিবেণী মহাজন বলেন, “উৎসব মানেই শান্তি, কিন্তু রাতভর উচ্চ শব্দে গান চলে এবং রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। প্রবীণ, শিশু ও অসুস্থ মানুষদের দুর্ভোগ হয়।”

সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় রাত ১০টার পর শব্দের সীমা ৪৫ ডেসিবেল। কিন্তু বুমবক্সে এ সীমা বহু গুণ ছাড়িয়ে যায়। যানবাহনের শব্দ ও সাজানো ট্রাকেও নিয়ম লঙ্ঘন হয়।

ট্রান্সপোর্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, “বিনা অনুমতিতে উচ্চ শব্দে গান বাজানো আইনত দণ্ডনীয়। অনুমতি নিলেও আওয়াজ নির্ধারিত মাত্রার বাইরে যেতে পারে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনুমতি ছাড়াই এসব হয়।”

দিল্লি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, “বিশেষ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। রাত ১০টার পর বুমবক্স যুক্ত ট্রাক ঢুকতে পারবে না। অনুমতিপ্রাপ্ত হলেও আওয়াজ সীমার মধ্যে থাকতে হবে।”

ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, গাজিপুর, মহারাজপুর, আপসারা, ভোপুরা, লোনি ও কালিন্দি কুঞ্জ সীমান্ত দিয়ে দিল্লিতে ঢুকছে কাওয়ারিয়ারা। তারা দিল্লি-মেরঠ এক্সপ্রেসওয়ে, এনএইচ-৯, মথুরা রোড, আউটার রিং রোড, ঔরবিন্দ মার্গ ও মেহরৌলি-গুরগাঁও সড়ক হয়ে শহরে প্রবেশ করছে।

রবিবার থেকেই কিছু রুটে যেমন নয়ডা–কালিন্দি কুঞ্জে যানজট শুরু হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত সারাই কালে খান, আশ্রম-বাদরপুর রোড, চিরাগ দিল্লি-আইআইটি ফ্লাইওভার, এনএইচ-৪৮, ঢৌলা কুয়াঁ ও মহিপালপুর সংলগ্ন এলাকায় তীব্র জট প্রত্যাশিত।

নগরীর পশ্চিম দিল্লিতে নাজফগড় রোড, রোহতক রোড, আউটার রিং রোড এবং উত্তর ও পূর্ব দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

যাত্রী ও কাওয়ারিয়াদের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে জিটি রোড, লোনি-গোকলপুরি রোড, কালিন্দি কুঞ্জ রোড এবং আগ্রা ক্যানাল রোড আংশিকভাবে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। বড় রাস্তাগুলোর অন্তত একটি লেন কাওয়ারিয়াদের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অধিকাংশ নাগরিক এবার চায় ধর্মীয় উৎসব উদযাপন হোক শান্তিপূর্ণভাবে, যাতে উৎসাহ বজায় থাকে কিন্তু নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনেও বিঘ্ন না ঘটে।

  • বিষয়াদি সম্পর্কে আরও পড়ুন:
  • ভারত

RELATED NEWS

Latest News