গত ১১ মাসে দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে “গণজাগরণের প্রত্যাশা ও দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ” শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন। গণতন্ত্র মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নুর বলেন, “এই সরকারের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে গেলে আমি ১০ এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪ বা ৫ নম্বর দেব। এটাও যেন বেশি দিয়ে দিচ্ছি মনে হচ্ছে।”
নুর অভিযোগ করেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বিএনপি-জামায়াত সংশ্লিষ্টদের পুনর্বহাল করা ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার আর কিছুই করতে পারেনি। তিনি বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম ব্যবস্থা বদল, কিন্তু তা এখনো অধরা। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এবং তার পরামর্শক পরিষদ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন।”
স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ভূমি অফিস, ইউএনও এবং ডিসি অফিসের সেবার মান আগের মতোই রয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাজনৈতিক প্রভাবে এসব অফিস এখনও চলছে বলেও মন্তব্য করেন নুর।
আলোচনায় নুর জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে অকার্যকর বলে উল্লেখ করেন। তবে তিনি মৌলিক সংস্কার নিয়ে ঐকমত্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংসদে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে তিনি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষকে প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন পদ্ধতিতে গঠনের প্রস্তাব দেন। “এই ব্যবস্থা চালু হলে ভিন্নমত সংসদে থাকবে, নইলে পুরনো অবস্থা বহাল থাকবে,” বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
আলোচনাসভাটি মূলত গত বছরের ১৯ জানুয়ারি গণতন্ত্র মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলার স্মরণে আয়োজিত হয়েছিল।