Monday, September 1, 2025
Homeআন্তর্জাতিকমিয়ানমারে নাওংখিও শহর পুনর্দখলের দাবি জান্তার, একবছরের যুদ্ধে শত শত সংঘর্ষ

মিয়ানমারে নাওংখিও শহর পুনর্দখলের দাবি জান্তার, একবছরের যুদ্ধে শত শত সংঘর্ষ

এক বছরের সংঘর্ষে ৫৬৬টি সামরিক মুখোমুখির পর শহরটি পুনরুদ্ধার করার দাবি জানিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী

মিয়ানমারের সেনা সরকার দাবি করেছে, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘর্ষের পর তারা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নাওংখিও শহর পুনর্দখল করেছে। শহরটি এর আগে গণতন্ত্রপন্থী গেরিলা এবং জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে ছিল।

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতিগত বাহিনী এবং গণতন্ত্রপন্থী জনগোষ্ঠী সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

গত গ্রীষ্মে দেশটির প্রধান সামরিক অফিসার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নিকটবর্তী নাওংখিও শহর দখল করে নেয় তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) এবং পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেসের যোদ্ধারা।

নাওংখিও শহরটি মান্দালয় থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার এবং পাইন উ লিন শহর থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে। সেনাবাহিনীর জন্য এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার–এ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১১ মাসের সময়ে মোট ৫৬৬টি সশস্ত্র সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে শহরটি বুধবার পুরোপুরি পুনর্দখল করেছে সেনাবাহিনী।

একটি একক পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বিজয় উদযাপনরত সেনাদের ছবি ছাপা হয় এবং জানানো হয়, প্রাথমিক সংঘর্ষে বেশ কিছু কর্মকর্তা ও সৈনিক প্রাণ হারান। তবে ‘স্থল ও আকাশপথে সমন্বিত কৌশলে’ শহরটি পুনর্দখল সম্ভব হয়েছে।

তবে টিএনএলএ একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা জান্তার এই দাবি স্বীকার করছে না। বরং তীব্র সামরিক আক্রমণের কারণে শহরে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে এবং তারা নিরাপদ এলাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থানান্তর করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহীদের সম্মিলিত আক্রমণে সেনাবাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে সামরিক জান্তা এখনো বড় শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, বিশেষ করে তারা শক্তিশালী বিমানবাহিনীর মাধ্যমে বিদ্রোহীদের প্রতিহত করতে সক্ষম।

উল্লেখযোগ্য যে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় লাশিও শহরও গত বছর অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া বিদ্রোহীদের যৌথ অভিযানে দখল হয়েছিল। তবে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে চীনের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতার মাধ্যমে শহরটি পুনরায় সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

মিয়ানমারে সামরিক সরকার এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চলমান এই সংঘাত দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

RELATED NEWS

Latest News