বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের (এনসিডি) ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘৩৬০° এনসিডি কেয়ার ইনিশিয়েটিভ’ চালু করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস), ব্র্যাক ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মেডট্রনিক ল্যাবস। বৃহস্পতিবার ব্র্যাক সেন্টার মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।
বর্তমানে দেশে মৃত্যুর ৭০ শতাংশের বেশি কারণ অসংক্রামক রোগ, এবং স্বাস্থ্য ব্যয়ে পরিবারের গড় খরচের ৬৮ শতাংশই বহন করতে হয় নিজস্ব অর্থে। ফলে লাখো মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, “কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধার চরাঞ্চল কিংবা পার্বত্য এলাকার মতো দুর্গম অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাচ্ছে না। সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে এই শূন্যতা পূরণ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “দ্বারে দ্বারে গিয়ে স্ক্রিনিং ও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য চিত্রের একটি সুনির্দিষ্ট ডাটাবেইজ তৈরি সম্ভব।”
ব্র্যাক নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, “স্বাস্থ্য খাতে কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য মানবসম্পদ, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার উপর জোর দিতে হবে।”
ডিজিএইচএস মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর জানান, দেশে প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন উচ্চ রক্তচাপে এবং প্রতি দশজনের একজন ডায়াবেটিসে ভুগছে। যেটির বড় অংশই অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিস্ক্রিয় জীবনযাত্রার ফল।
তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই মৃত্যুর ৪০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য।
অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ সাপোর্ট ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবু মুহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, “এনসিডি এখন সব শ্রেণির মানুষের জন্য বড় স্বাস্থ্য হুমকি। রোগ প্রতিরোধে কমিউনিটি পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা জোরদার করতে হবে।”
ব্র্যাকের হেলথ অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের সিনিয়র ডিরেক্টর ডা. মো. আকরামুল ইসলাম জানান, ব্র্যাকের স্বাস্থ্যকর্মীরা টেলিকনসালটেশন, ফলো-আপ এবং রোগীর ডাটা ট্র্যাক করতে ‘SPICE’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে।
এই SPICE সিস্টেম এখন DHIS2-তে সংযুক্ত, যার মাধ্যমে জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে তথ্য বিনিময় সহজ হয়েছে।
প্রকল্পটি প্রাথমিকভাবে নীলফামারী ও নারায়ণগঞ্জসহ পাঁচটি উপজেলায় চালু হয়ে ৪৫০০ রোগীর মধ্যে ৭৮ শতাংশের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং ৪১ শতাংশের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এখন এটি ৪৩টি উপজেলায় বিস্তৃত হয়েছে এবং জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এনসিডি মোকাবিলায় প্রযুক্তি, খাদ্যনীতি, আর্থিক সহায়তা ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সাশ্রয়ী এবং টেকসই করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
