অর্থনৈতিক প্রতিবেদক | ঢাকা
১৪ এপ্রিল, ২০২৬
২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থবাজারে এক বড় ধরণের ‘শকওয়েভ’ তৈরি করেছে। মার্চ মাসে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়ানোর পর বর্তমানে তা ৯৫-১০০ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল থাকলেও এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সির ওপর। বিশেষ করে বিটকয়েন তার আগের রেকর্ড উচ্চতা (প্রায় $৯৮,০০০) থেকে ৩০% এর বেশি কমে এখন ৬০,০০০–৭৫,০০০ ডলারের ঘরে ওঠানামা করছে।
ম্যাক্রো ইকোনমিক ফ্যাক্টর ও বাজারের বর্তমান অবস্থা
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) সতর্ক করেছে যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক তেলের ৩০% এবং এলএনজির ২০% যাতায়াত করায় এই যুদ্ধ কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে।
বাজারের মূল সূচকসমূহ:
| সূচক | বছরের শুরুতে | মার্চ ২০২৬ (পিক) | বর্তমান অবস্থা (এপ্রিল ১৪) |
| ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল | $৭০ | $১১০+ | $৯৭ – $১০০ |
| DXY (ডলার ইনডেক্স) | ৯৫ – ৯৬ | ১০০+ | ৯৮ – ৯৯ |
| বিটকয়েন (BTC) | $৮৫,০০০ | $৯৭,৮০০ | $৬৫,৫০০ (গড়) |
| ফেড রেট কাট সম্ভাবনা | উচ্চ | নেই বললেই চলে | ৯৯.৫% (স্থির থাকার সম্ভাবনা) |
লিকুইডিটি স্কুইজ: কেন বাড়ছে না বিটকয়েন?
তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতিকে (Inflation) নিয়ন্ত্রণে আসতে দিচ্ছে না। এর ফলে ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ (Fed) সুদের হার কমানোর পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে এসেছে। ক্রিপ্টো মার্কেটে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের (ETF) আধিপত্য বেশি হওয়ায় এটি এখন প্রথাগত শেয়ার বাজারের মতোই সুদের হারের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়েছে।
