অর্থনৈতিক প্রতিবেদক | ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ইরানের বন্দরগুলোতে ঘোষিত নৌ-অবরোধ বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড় ধরণের কম্পন সৃষ্টি করেছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) এশীয় বাজারে তেলের দাম এক লাফে ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি নতুন ‘এনার্জি শক’ বা জ্বালানি বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
অবরোধ ও ‘ডার্ক ফ্লিট’-এর রহস্য
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান তার ‘ডার্ক ফ্লিট’ বা ছায়া জাহাজের বহর ব্যবহার করে এশিয়ায় তেল সরবরাহ সচল রেখেছিল। এই জাহাজগুলো সাধারণত পুরোনো, যাদের মালিকানা অস্পষ্ট এবং জিপিএস ডেটা কারসাজি করে তারা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলে।
গত এক মাসের পরিসংখ্যান (Kpler ও AFP-এর তথ্যমতে):
| সূচক | পরিসংখ্যান | মন্তব্য |
| দৈনিক গড় রপ্তানি | ১.৮ মিলিয়ন ব্যারেল | ২০২৫ সালের গড় (১.৭ মি.) থেকে কিছুটা বেশি। |
| মোট ট্রানজিট (মার্চ ১-এপ্রিল ১২) | ৫৮টি তেলবাহী ট্যাংকার | ৮০% জাহাজই ইরানের দ্বীপ বা পতাকা ব্যবহারকারী। |
| তেলের বর্তমান দাম | ব্যারেল প্রতি $১০০+ | অবরোধ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৮% বৃদ্ধি। |
| নগদ সহায়তা (ভারত) | ২ মিলিয়ন ব্যারেল | ২০১৯ সালের পর প্রথমবার ‘ফেলিসিটি’ ট্যাংকারের সরাসরি সরবরাহ। |
কুইন্সি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আমির হানজানি বলেন, “মার্কিন নৌবাহিনী কি এখন চীন, ভারত বা পাকিস্তানের জাহাজে তল্লাশি চালাবে? এটি করলে তা সরাসরি একটি যুদ্ধের শামিল হবে।”
আইনি জটিলতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
আটলান্টিক কাউন্সিলের এলিজাবেথ ব্রাও এই পদক্ষেপকে ওয়াশিংটনের ‘হেল মেরি মুভ’ বা শেষ মুহূর্তের একটি মরিয়া চাল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী বাণিজ্যিক জাহাজে এমন অবরোধ সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ অবৈধ।
চীন ইতিমধ্যে এই পদক্ষেপকে “বিপজ্জনক এবং দায়িত্বহীন” বলে নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তাদের জন্য ‘জীবন-মরণ’ বা অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন।
