আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
ইরানের বন্দরগুলোকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার পর এবার সরাসরি ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অবরোধের সীমানায় ইরানের কোনো ‘অ্যাটাক বোট’ বা আক্রমণকারী নৌকা দেখা গেলেই সেগুলোকে অবিলম্বে ধ্বংস (ELIMINATED) করা হবে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার জিএমটি ১৪:০০ ঘটিকা থেকে এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার কথা। যদিও সময় পার হওয়ার পর কোনো জাহাজ আটক বা সুনির্দিষ্ট কোনো সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে পুরো অঞ্চলে এখন চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।
শান্তি আলোচনা ব্যর্থ ও বর্তমান পরিস্থিতি
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তান সফর শেষে কোনো চুক্তি ছাড়াই ফিরে আসার পর এই কঠোর পদক্ষেপ নেন ট্রাম্প।
এক নজরে বর্তমান সংকট ও বিশ্ব প্রতিক্রিয়া:
| দেশ/সংস্থা | অবস্থান | মূল বক্তব্য |
| যুক্তরাষ্ট্র | কঠোর অবরোধ | ইরানি বন্দরে আসা-যাওয়া সব জাহাজ তল্লাশি ও বাধা দেওয়া হবে। |
| ইরান | পাল্টা হুমকি | এই অবরোধকে ‘জলদস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে আরব উপসাগরের সব বন্দর অনিরাপদ করার হুঁশিয়ারি। |
| পাকিস্তান ও কাতার | মধ্যস্থতাকারী | যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার এবং আলোচনার টেবিলে ফেরার জোর আহ্বান। |
| চীন | কঠোর নিন্দা | আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুট বাধাগ্রস্ত না করার দাবি; এটিকে অস্থিতিশীল আখ্যা। |
| যুক্তরাজ্য ও স্পেন | দূরত্ব বজায় রাখা | ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, তারা এই অবরোধে অংশ নেবেন না। |
| আইএমও (IMO) | আইনি অবস্থান | আন্তর্জাতিক জলপথে ‘নির্দোষ যাতায়াত’ (Innocent passage) বাধা দেওয়ার অধিকার কারো নেই। |
তেল ও পারমাণবিক উত্তাপ
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে রাশিয়া তাদের ১০৮ জন কর্মীকে সরিয়ে নিয়েছে, বর্তমানে সেখানে মাত্র ২০ জন অবস্থান করছেন। যুদ্ধের শুরু থেকে এই কেন্দ্রের আশেপাশে অন্তত চারবার হামলা চালানো হয়েছে।
