অর্থনৈতিক প্রতিবেদক | ঢাকা
১৩ এপ্রিল, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে দেশের অভ্যন্তরে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের নতুন দর পর্যালোচনা করতে ছয় সদস্যের একটি শক্তিশালী মন্ত্রিপরিষদ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির বাড়তি বোঝা কীভাবে এবং কতটুকু সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো হবে, তা নির্ধারণ করাই এই কমিটির প্রধান কাজ। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে।
কমিটির গঠন ও কার্যপরিধি
অর্থ অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে সরকারের নীতিনির্ধারক ও আমলাতান্ত্রিক পর্যায়ের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।
কমিটির সদস্যবৃন্দ:
আহ্বায়ক: অর্থমন্ত্রী।
সদস্য: বাণিজ্যমন্ত্রী।
সদস্য: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী।
সদস্য: অর্থ বিভাগ সচিব।
সদস্য: বিদ্যুৎ বিভাগ সচিব।
সদস্য: জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সচিব।
মূল লক্ষ্যসমূহ:
পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের সম্ভাব্য নতুন হার পর্যালোচনা করা।
জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি ব্যয় (LNG, তেল) সমন্বয়ের উপায় খুঁজে বের করা।
ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়িয়ে উৎপাদন খরচ ও ডলার সংকটের ভারসাম্য রক্ষা করা।
সংকটের নেপথ্যে: ‘ট্রিপল থ্রেট’
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের সূচনার পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এবং অন্যান্য জ্বালানির দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে ডলারের বিপরীতে টাকার বড় অংকের অবমূল্যায়ন। যেহেতু বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় একটি অংশ আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরশীল, তাই উৎপাদন খরচ সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
