আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১২ এপ্রিল, ২০২৬
লন্ডনের প্রাণকেন্দ্র ট্রাফালগার স্কয়ারে শনিবার এক নজিরবিহীন গণগ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত গোষ্ঠী ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর সমর্থনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ৫২৩ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১৮ বছর বয়সী তরুণ থেকে শুরু করে ৮৭ বছর বয়সী বৃদ্ধও রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা এমন প্ল্যাকার্ড বহন করছিলেন যা নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে, যা বর্তমান সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইন অনুযায়ী একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
আইনি জটিলতা ও পটভূমি
প্যালেস্টাইন অ্যাকশন এবং পুলিশের এই সংঘাতের মূলে রয়েছে একটি জটিল আইনি লড়াই। গত বছরের জুলাই মাসে ব্রিটিশ সরকার এই সংগঠনটিকে ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে লন্ডনের হাইকোর্ট এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ’ বলে রায় দেয়।
ঘটনার প্রধান তথ্যসমূহ:
| বিষয় | বিবরণ |
| মোট গ্রেপ্তার | ৫২৩ জন (শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত)। |
| বয়স সীমা | ১৮ থেকে ৮৭ বছর। |
| মূল অভিযোগ | নিষিদ্ধ সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থন ও প্ল্যাকার্ড বহন। |
| শাস্তির বিধান | দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড। |
| আইনি অবস্থা | হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞা অবৈধ ঘোষণা করলেও সরকার এর বিরুদ্ধে আপিল করেছে। |
| পরবর্তী শুনানি | সকল মামলার গণ-পর্যালোচনার জন্য ৩০ জুলাই নির্ধারিত। |
মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, হাইকোর্টের রায়ের পর তারা কিছুকাল গ্রেপ্তার স্থগিত রাখলেও মার্চ মাসের শেষ দিক থেকে আবারও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
প্রতিক্রিয়া: নাগরিক অধিকার বনাম নিরাপত্তা
অ্যামনেস্টি ইউকে এই গণগ্রেপ্তারকে ‘নাগরিক স্বাধীনতার ওপর প্রচণ্ড আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের মতে, স্রেফ কার্ডবোর্ডের টুকরো হাতে থাকার জন্য একজন বয়স্ক নারীকে গ্রেপ্তার করা পুলিশের ব্যর্থ নীতির বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারী ফ্রেয়া (২৮) বলেন, “সরকার তাদের আইনি যুক্তিতে বার বার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে, কিন্তু আমাদের নৈতিক অবস্থান পরিবর্তন হবে না।”
