নিজস্ব প্রতিবেদক | কুষ্টিয়া
১১ এপ্রিল, ২০২৬
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামে ব্লাসফেমি বা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শামীম রেজা জাহাঙ্গীর নামে এক ‘আধ্যাত্মিক নেতা’কে পিটিয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। জনতা কেবল তাকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, তার প্রতিষ্ঠিত মাজারে ভাঙচুর চালিয়ে অগ্নিসংযোগও করেছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতেই এই তাণ্ডব চালানো হয়।
শামীম রেজা জাহাঙ্গীর দীর্ঘ দিন ধরে ওই এলাকায় নিজস্ব পন্থায় আধ্যাত্মিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার কিছু বিতর্কিত বক্তব্য ভাইরাল হলে স্থানীয় একটি মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার ক্রমবিকাশ ও পুলিশের ভূমিকা
পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
| সময় | ঘটনা |
| সকাল | ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জনসমাগম শুরু হয়। |
| দুপুর | কয়েকশ মানুষ মাজার ঘেরাও করে হামলা চালায়। |
| বিকেল | শামীম ও তার অনুসারীদের ওপর শারীরিক আক্রমণ এবং মাজার পুড়িয়ে দেওয়া হয়। |
| সন্ধ্যা | গুরুতর আহত অবস্থায় শামীম দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যান। |
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবক্ষয়: দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান স্বীকার করেছেন যে, পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকলেও জনতার বিপুল উপস্থিতির কারণে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন। পুলিশের দাবি, ভিডিওটি পুরোনো কি না তা যাচাই করার আগেই উত্তেজিত জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। উল্লেখ্য, শামীম রেজা জাহাঙ্গীর ২০২১ সালেও একই ধরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
