আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ইসলামাবাদ
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬
দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিশ্ব আজ তাকিয়ে আছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে। মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় রোধে আজ শনিবার সরাসরি বৈঠকে বসেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে আলোচনার শুরুতেই তেহরানের কড়া শর্ত—লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ এবং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন একটি ‘শান্তি চুক্তির’ স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, তখন তেহরান তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে কোনো আপস না করার অবস্থানে অনড়।
ইউএস-ইরান শান্তি আলোচনা: কার দাবি কী?
ইসলামাবাদ বৈঠকের মূল এজেন্ডাগুলো দুই পক্ষের জন্যই অত্যন্ত স্পর্শকাতর। নিচে একটি তুলনামূলক ছকের মাধ্যমে প্রধান ইস্যুগুলো তুলে ধরা হলো:
| আলোচনার বিষয় | ইরানের দাবি ও অবস্থান | মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ও অবস্থান |
| লেবানন ফ্রন্ট | লেবাননে যুদ্ধবিরতি ছাড়া আলোচনা অর্থহীন। | এটি ইরান-ইউএস চুক্তির অংশ নয়, আলাদা বিষয়। |
| নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ | ফ্রিজ করা সম্পদ অবমুক্ত ও পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। | মিসাইল ও পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দিলে তবেই বিবেচনা। |
| হরমুজ প্রণালী | টোল আদায় ও যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ কর্তৃত্ব চাই। | কোনো টোল ছাড়া অবাধ ও উন্মুক্ত চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। |
| পারমাণবিক কর্মসূচি | ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার থাকতে হবে। | এটি নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না (Non-negotiable)। |
| মিসাইল সক্ষমতা | নিজেদের মিসাইল অস্ত্রাগার নিয়ে কোনো আপস নয়। | ইরানের মিসাইল সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমাতে হবে। |
| সামরিক উপস্থিতি | মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। | চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে সেনা প্রত্যাহার নয়। |
বিশ্লেষণ ও নিষ্ঠুর সত্য
ইসলামাবাদের এই আলোচনা সফল হওয়া যতটা না কূটনৈতিক দক্ষতার ওপর নির্ভর করছে, তার চেয়ে বেশি নির্ভর করছে ‘ইগো’ এবং ‘অবাস্তব প্রত্যাশা’র ওপর।
১. হরমুজ প্রণালী: এক নতুন ‘সুয়েজ খাল’? ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে টোল আদায় এবং যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি পায়, তবে এটি হবে গত কয়েক দশকের মধ্যে বৈশ্বিক ক্ষমতার সবচেয়ে বড় রূপান্তর। এর ফলে ইরান পুরো বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের ‘সুইচ’ নিজের হাতে পেয়ে যাবে। আমেরিকা কি সত্যিই ট্রাম্পের অধীনে এমন একটি সার্বভৌমত্ব হাতছাড়া করবে? উত্তরটি সম্ভবত ‘না’।
২. লেবানন প্যারাডক্স: ইসরায়েল ও আমেরিকা বলছে লেবানন আলাদা ইস্যু, কিন্তু ইরান বলছে এটি ‘প্যাকেজ ডিল’। যদি ইরান এই দাবিতে অনড় থাকে, তবে আজকের বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইসরায়েলকে বাদ দিয়ে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা বন্ধ করার গ্যারান্টি দেওয়া ট্রাম্পের জন্য অসম্ভব।
৩. ক্ষতিপূরণ ও অহংকার: ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ চাইছে। ভিয়েতনাম বা ইরাকের ইতিহাসে আমেরিকা কখনো পরাজিত না হয়ে ক্ষতিপূরণ দেয়নি। ট্রাম্পের মতো একজন নেতার পক্ষে এটি মেনে নেওয়া মানে রাজনৈতিকভাবে আত্মসমর্পণ করা।
