Friday, April 10, 2026
Homeজাতীয়মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধনী বিল ২০২৬ পাস: এবার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাচ্ছেন ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’রা

মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধনী বিল ২০২৬ পাস: এবার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাচ্ছেন ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’রা

সম্মুখ সমরের যোদ্ধাদের পাশাপাশি সংগঠক ও সুশীল সমাজের অবদানকে আইনি কাঠামোয় আনল সংসদ; বিলে বিরোধিতা জামায়াতে ইসলামীর।

সংসদ বিষয়ক প্রতিবেদক | ঢাকা

১০ এপ্রিল, ২০২৬

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি অ-সামরিক ও নেপথ্য ভূমিকা পালনকারীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পরিধি বাড়াতে সংসদে পাস হয়েছে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল, ২০২৬’। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বিলটি উত্থাপন করেন। এই সংশোধনীর মাধ্যমে ২০২২ সালের মূল আইনে বড় ধরণের পরিবর্তন এনে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’র পাশাপাশি ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ (Associates of the Liberation War) নামক একটি নতুন ক্যাটাগরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা বনাম মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী: সংজ্ঞার পার্থক্য

নতুন বিলে প্রথমবারের মতো যুদ্ধের সম্মুখ সারির যোদ্ধা এবং নেপথ্যের সাহায্যকারীদের মধ্যে একটি স্পষ্ট আইনি পার্থক্য তৈরি করা হয়েছে।

ক্যাটাগরিকাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?প্রধান বৈশিষ্ট্য
বীর মুক্তিযোদ্ধাযারা সরাসরি যুদ্ধ করেছেন, সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, বীরাঙ্গনা এবং ফিল্ড হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্টাফ।২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১-এর সক্রিয় অংশগ্রহণ।
মুক্তিযুদ্ধের সহযোগীযারা দেশে বা বিদেশে থেকে সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছেন, বিশ্ব জনমত গঠন করেছেন এবং কূটনৈতিক ও মানসিক সমর্থন যুগিয়েছেন।অনুপ্রেরণা দান ও বিজয় ত্বরান্বিত করার ভূমিকা।

জামুকা তহবিল ও প্রশাসনিক ক্ষমতা

পাস হওয়া বিল অনুযায়ী একটি ডেডিকেটেড ‘জামুকা ফান্ড’ (JAMUKA Fund) গঠন করা হবে। এই তহবিল সরকারি অনুদান, ব্যক্তিগত দান এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য থেকে পরিচালিত হবে। এছাড়া কোনো মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটি বাতিল হলে জামুকা সেখানে প্রশাসক নিয়োগ বা ১১ সদস্যের অ্যাড-হক কমিটি গঠনের ক্ষমতা লাভ করবে।

সংসদে তুমুল বিতর্ক: জামায়াতে ইসলামীর বিরোধিতা

বিলের বিরোধিতা করে বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সাম্য ও মানবিক মর্যাদার আশায় দেশ স্বাধীন হলেও স্বাধীনতা পরবর্তী শাসকরা দ্রুত তা ভুলে গিয়েছিলেন। তিনি ১৯৭৫ সালের বাকশাল ব্যবস্থা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র বাতিলের সমালোচনা করেন। শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সংজ্ঞার অনেকগুলো দিক বিগত ‘ফ্যাসিস্ট’ আওয়ামী লীগ আমলের প্রেক্ষিত থেকে নেওয়া হয়েছে। তিনি বিভক্তির রাজনীতির বদলে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দেন।

তবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ জানান, বিলে এনসিপির (NCP) কোনো আপত্তি নেই। এরপর বিলটি ভোটে দেওয়া হলে তা পাস হয়।

RELATED NEWS

Latest News