আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১০ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণাও দমাতে পারেনি লেবানন সীমান্তের উত্তেজনা। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে বড় ধরণের হামলা শুরু করেছে। ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পরিধি বাড়ানোর প্রস্তুতির খবর পাওয়ার পরপরই তারা এই ‘প্রি-emptive’ হামলা শুরু করে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা (NNA) জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের কৌশলগত শহর বিনত জবেইল এবং শুকিন গ্রামে ভয়াবহ বিমান হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, বিনত জবেইল শহরটি হিজবুল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রতীকী ও সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
রণক্ষেত্রের চিত্র ও হতাহত: একনজরে
বুধবারের সেই ‘ঐতিহাসিক’ সমন্বিত হামলার পর বৃহস্পতিবারও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েল—উভয় পক্ষই এখন সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে।
গত ২৪ ঘণ্টার উল্লেখযোগ্য ঘটনা:
| বিষয় | বিবরণ | বর্তমান অবস্থা |
| ইসরায়েলি হামলা | দক্ষিণ লেবাননের বিনত জবেইল ও শুকিন লক্ষ্য করে বিমান হামলা। | উদ্ধারকাজ চলমান (শুকিনে আটকা পড়ার শঙ্কা)। |
| হিজবুল্লাহর পাল্টা জবাব | উত্তর ইসরায়েল ও হাইফাতে ২০টির বেশি রকেট এলার্ট। | আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Iron Dome) দিয়ে ইন্টারসেপশন। |
| প্রাণহানি (বুধবার) | ৩ শতাধিক নিহত, ১ হাজারের বেশি আহত (লেবানন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়)। | যুদ্ধের শুরু থেকে এটিই এক দিনে সর্বোচ্চ। |
| যুদ্ধবিরতির অসংগতি | হিজবুল্লাহ বলছে ইসরায়েল ট্রুস লঙ্ঘন করছে; ইসরায়েল বলছে লেবানন এই চুক্তির বাইরে। | কূটনৈতিক বিভ্রান্তি তুঙ্গে। |
হাইফায় সাইরেন: হিজবুল্লাহর জবাব
ইসরায়েলের বিমান হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর ইসরায়েলের প্রধান শহর হাইফাসহ সীমান্ত সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় রকেট সাইরেন বেজে ওঠে। এএফপির ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আকাশে রকেটের দীর্ঘ ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সেগুলো প্রতিহত করার দৃশ্য। তবে বড় ধরণের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনও পাওয়া যায়নি।
