আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৯ এপ্রিল, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে চরম উত্তেজনার মধ্যেই একটি অভাবনীয় কূটনৈতিক মোড় আসতে যাচ্ছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরাসরি আলোচনার নির্দেশের পর আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে সরাসরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ইসরায়েল ও লেবানন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের (State Department) এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
কূটনৈতিক সূত্রমতে, এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রতিনিধিত্ব করবেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত তাদের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লিটার এবং লেবাননের পক্ষে থাকবেন তাদের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদে মোয়াদ।
এক নজরে বৈঠকের প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্য
এই সরাসরি আলোচনা এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যখন পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হতে চলেছে। তবে লেবানন ইস্যুতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনও অনড়।
বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয়সমূহ:
| আলোচনার বিষয় | বিস্তারিত ও সম্ভাব্য প্রভাব |
| হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ | দক্ষিণ লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর প্রভাব কমানো ও নিরস্ত্রীকরণ। |
| সীমান্ত শান্তি | ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন। |
| বৈরুত ডিমিলিটারাইজেশন | বৈরুতকে সামরিক মুক্ত শহর হিসেবে ঘোষণা করার সম্ভাবনা। |
| যুদ্ধবিরতির অসংগতি | যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত না করা। |
নেতানিয়াহুর কঠোর অবস্থান ও লেবাননের আকুতি
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির আওতাভুক্ত নয়। তবে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বারবার সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, লেবাননের সংকট সমাধানের একমাত্র পথ হলো সরাসরি সংলাপ, যা ইরানের মধ্যস্থতা থেকে আলাদা হবে।
