Wednesday, April 8, 2026
Homeঅর্থ-বাণিজ্য‘১৯৭৩ ও ১৯৭৯-এর চেয়েও ভয়াবহ’: হরমুজ সংকটে বিশ্ব অর্থনীতির পঙ্গু হওয়ার শঙ্কা

‘১৯৭৩ ও ১৯৭৯-এর চেয়েও ভয়াবহ’: হরমুজ সংকটে বিশ্ব অর্থনীতির পঙ্গু হওয়ার শঙ্কা

২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ; আইইএ প্রধান ফাতিহ বিরোলের ‘মহাপ্রলয়’ সতর্কবার্তা; সবচেয়ে ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো।

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক | ঢাকা

৮ এপ্রিল, ২০২৬

বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ১৯৭৩, ১৯৭৯ এবং ২০২২ সালের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সম্মিলিত রূপকেও ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল ফরাসি সংবাদপত্র লে ফিগারো (Le Figaro)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ভয়াবহ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, বিশ্ব ইতিপূর্বে কখনো এত বিশাল মাত্রার জ্বালানি সরবরাহ সংকটের মুখোমুখি হয়নি।

ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালী প্রায় সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশ এই রুট দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই অবরোধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হতে শুরু করেছে।

সংকটের প্রভাব: উন্নত বনাম উন্নয়নশীল বিশ্ব

ফাতিহ বিরোল জানান, ইউরোপের দেশগুলোর পাশাপাশি জাপান ও অস্ট্রেলিয়া এই সংকটে ভুগবে ঠিকই, তবে এর আসল মাশুল গুনতে হবে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে।

সম্ভাব্য ঝুঁকির ক্ষেত্রসমূহ:

খাতের নামপ্রভাবের ধরণ
জ্বালানিতেল ও গ্যাসের দাম রেকর্ড ছাড়াবে, ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হবে।
খাদ্য নিরাপত্তাপরিবহন ও সেচ খরচ বৃদ্ধিতে খাদ্যশস্যের দাম অসহনীয় পর্যায়ে যাবে।
মুদ্রাস্ফীতিসাধারণ জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, যা অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দেবে।
কৌশলগত রিজার্ভআইইএ সদস্যরা ইতিমধ্যে তাদের কৌশলগত রিজার্ভ থেকে তেল ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

কৌশলগত রিজার্ভ কি সমাধান?

আইইএ সদস্য দেশগুলো গত মাসে তাদের কৌশলগত মজুদ থেকে জ্বালানি ছাড়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। বিরোল জানিয়েছেন, কিছু অংশ ইতিমধ্যে বাজারে ছাড়া হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া চলমান। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ রুট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকলে কেবল রিজার্ভ দিয়ে এই অভাব পূরণ করা অসম্ভব।

RELATED NEWS

Latest News