Wednesday, April 8, 2026
Homeজীবনযাপনপেটের ‘সামান্য’ অস্বস্তি আসলে কি মরণব্যাধি? ৪৬ বছর বয়সী ইঞ্জিনিয়ারের করুণ পরিণতি

পেটের ‘সামান্য’ অস্বস্তি আসলে কি মরণব্যাধি? ৪৬ বছর বয়সী ইঞ্জিনিয়ারের করুণ পরিণতি

ব্যথা বা রক্তপাত ছাড়াই ৬ মাস ধরে শরীরে বাসা বেঁধেছিল কোলন ক্যান্সার; যখন ধরা পড়ল তখন তা ছড়িয়ে পড়েছে লিভারে।

স্বাস্থ্য প্রতিবেদক | ঢাকা

৭ এপ্রিল, ২০২৬

পেশায় একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। বয়স ৪৬। গত ছয় মাস ধরে কেবল সামান্য “পেট খারাপ” বা অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। কোনো ব্যথা নেই, কোনো রক্তপাত নেই, এমনকি মলত্যাগের অভ্যাসেও বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। ব্যস্ত জীবন, তাই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার “সময় নেই” (Time nahi milta)। ঘরোয়া টোটকা আর সাধারণ এন্টাসিড খেয়ে অস্বস্তি দমিয়ে রাখতেন। ফলাফল? আল্ট্রাসাউন্ড এবং পেট স্ক্যানে ধরা পড়ল ‘সিগময়েড কোলন ক্যান্সার’, যা ইতিমধ্যেই তার লিভারে ছড়িয়ে পড়েছে (মেটাস্ট্যাসিস)।

গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সার্জন ডঃ কার্তিক সাহনি ইনস্টাগ্রামে এই ঘটনাটি শেয়ার করে সবাইকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, “ক্যান্সার তার কাজ অত্যন্ত নিঃশব্দে করে যায়। যে রোগটি ৬ দিনে ধরা পড়তে পারত, ৬ মাসের অবহেলায় সেটি এখন জীবন-মৃত্যুর পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।”

কেন কোলন ক্যান্সারকে ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হয়?

থানের কিমস হাসপাতালের অনকোলজিক্যাল সায়েন্সেস ডিরেক্টর ডঃ অনিল হিরুর বলেন, সিগময়েড কোলন (মলাশয়ের বাম অংশ) ক্যান্সার মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর নিঃশব্দে বাড়তে পারে।

  • প্রাথমিক লক্ষণগুলো অস্পষ্ট: সামান্য পেট ফাঁপা, গ্যাস বা অস্বস্তি।

  • ভুল ধারণা: যেহেতু শুরুতে রক্তপাত বা প্রচণ্ড ব্যথা হয় না, মানুষ মনে করে এটি সাধারণ হজমের সমস্যা।

  • বিপজ্জনক মাস্কিং: ওভার-দ্য-কাউন্টার (OTC) এন্টাসিড বা ব্যথানাশক ওষুধ সাময়িকভাবে আরাম দেয়, যা আসল রোগটিকে আড়ালে রাখে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩-৪ সপ্তাহের বেশি পেটের কোনো অস্বস্তি স্থায়ী হলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়।

লক্ষণকতদিন স্থায়ী হলে ডাক্তার দেখাবেন?প্রয়োজনীয় পরীক্ষা
পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি৩ – ৪ সপ্তাহএন্ডোস্কোপি / কোলনোস্কোপি
মলত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন৪ – ৬ সপ্তাহমলের ওকাল্ট ব্লাড টেস্ট (FIT)
অকারণ ক্লান্তি বা রক্তশূন্যতাঅবিরত থাকলেসম্পূর্ণ রক্ত পরীক্ষা (CBC)
আকস্মিক ওজন হ্রাসদ্রুততম সময়েসিটি স্ক্যান / বায়োপসি

সিকে বিড়লা হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট ডঃ বিকাশ জিন্দাল জোর দিয়ে বলেন, যদি ৪-৬ সপ্তাহ ধরে সমস্যা স্থায়ী হয় তবে অবশ্যই আপার গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল এন্ডোস্কোপি বা কোলনোস্কোপি করা উচিত। এটি সরাসরি পেটের ভেতরের অবস্থা দেখতে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে বায়োপসি করতে সাহায্য করে।

RELATED NEWS

Latest News