আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৭ এপ্রিল, ২০২৬
ইরান যুদ্ধের ৩৮তম দিনে এসে একটি ৪৫ দিনের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাবটিকে একটি ‘খুবই তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এটি এখনো যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য ‘যথেষ্ট নয়’।
সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত প্রথাগত ‘ইস্টার এগ রোল’ অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব, একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি যথেষ্ট নয়, তবে একটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি। তারা এখন আলোচনা করছে, দেখা যাক কী হয়।”
অপারেশন এপিক ফিউরি বনাম কূটনৈতিক আলোচনা
হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি খসড়া তাদের হাতে রয়েছে, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো এতে স্বাক্ষর করেননি। এর অর্থ হলো, মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury) আগের মতোই চলমান থাকবে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এএফপি-কে জানান, “এটি কেবল অনেকগুলো ধারণার মধ্যে একটি মাত্র। প্রেসিডেন্ট এখনো এটি অনুমোদন করেননি।”
ইরানের পাল্টা জবাব ও প্রত্যাখ্যান
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) জানিয়েছে, তেহরান এই ‘আমেরিকান প্রস্তাব’ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ১০ দফার একটি পাল্টা জবাবে ইরান জানিয়েছে, তারা কেবল সাময়িক বিরতি নয়, বরং এই যুদ্ধের চিরস্থায়ী সমাপ্তি চায়।
দুই পক্ষের অবস্থানের তুলনা:
| বিষয় | মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ট্রাম্পের অবস্থান) | ইরান (তেহরানের অবস্থান) |
| প্রস্তাবিত সময় | ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি। | প্রত্যাখ্যান (সাময়িক বিরতি চায় না)। |
| মূল লক্ষ্য | ইরানকে দুর্বল করা এবং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। | যুদ্ধের চিরস্থায়ী অবসান। |
| সামরিক অবস্থা | ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলমান থাকবে। | মিসাইল হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা। |
| সম্পদ নিয়ন্ত্রণ | “আমি তেল দখল করে প্রচুর অর্থ বানাতে চাই।” | নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা। |
তেল ও ট্রাম্পের ‘খোলামেলা’ স্বীকারোক্তি
অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের চিরাচরিত ‘স্পষ্টবাদিতা’ ফুটে ওঠে যখন তিনি ইরানের তেলের খনিগুলো দখল করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি হলে তেল রেখে দিতাম এবং প্রচুর অর্থ উপার্জন করতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আমেরিকান জনগণ চায় আমরা ঘরে ফিরে আসি এবং যুদ্ধের অবসান ঘটাই।” তিনি আরও দাবি করেন যে, এক মাস আগের তুলনায় ইরানের সামরিক শক্তি বর্তমানে অনেক কমে গেছে।
