Tuesday, April 7, 2026
Homeখেলাধুলাক্রিকেটকক্সবাজারে ১৯২১ কোটি টাকার মেগা স্পোর্টস কমপ্লেক্স: সমুদ্র সৈকতে বিশ্বমানের স্পোর্টিং হাব

কক্সবাজারে ১৯২১ কোটি টাকার মেগা স্পোর্টস কমপ্লেক্স: সমুদ্র সৈকতে বিশ্বমানের স্পোর্টিং হাব

২০৩১ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে গতি পাচ্ছে লাবণী পয়েন্টের উন্নয়ন; থাকছে ৫ তারকা হোটেল ও সাম্পান আকৃতির স্টেডিয়াম।

ক্রীড়া প্রতিবেদক | ৭ এপ্রিল, ২০২৬

কক্সবাজারের পর্যটন আকর্ষণকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (NSC)। প্রায় ১,৯২১ কোটি টাকা ব্যয়ে লাবণী পয়েন্ট এলাকায় একটি মেগা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করছে সরকার। মূলত “স্পোর্টস ট্যুরিজম” বা ক্রীড়া পর্যটনকে চাঙ্গা করতেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়া হয়েছে।

গত ৩ এপ্রিল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিসিবি এবং এনএসসির মধ্যকার দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এখন অতীত। ২০৩১ সালের আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে বাংলাদেশ ও ভারত, যা এই কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রয়োজনীয়তাকে কৌশলগতভাবে অপরিহার্য করে তুলেছে।

প্রকল্পের প্রধান আকর্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা

প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী, এই কমপ্লেক্সটি হবে ঐতিহ্যবাহী ‘সাম্পান’ নৌকার আদলে। সমুদ্রের লোনা বাতাস এবং সৌন্দর্যের কথা মাথায় রেখে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দক্ষিণ দিকটি খোলা রাখা হবে, যাতে গ্যালারি থেকে ঝাউবন ও সমুদ্র দেখা যায়।

একনজরে স্পোর্টস কমপ্লেক্সের বৈশিষ্ট্য:

বৈশিষ্ট্যবিবরণ
ক্রিকেট স্টেডিয়াম২২,০০০ আসন বিশিষ্ট (উন্মুক্ত দক্ষিণ স্ট্যান্ড)
ফুটবল স্টেডিয়াম২১,০০০ আসন বিশিষ্ট
আবাসন সুবিধা১৪ তলা বিশিষ্ট পাঁচ তারকা হোটেল
অন্যান্যইনডোর স্টেডিয়াম ও অতিরিক্ত প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড
নকশা অনুপ্রেরণাঐতিহ্যবাহী সাম্পান নৌকা
মোট জমি৪৯.২৫ একর (লাবণী পয়েন্ট)

পেছনের গল্প: ২০১৩ থেকে ২০২৬

এই ভেন্যুটির ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। ২০১৩ সালে বিসিবি এই জমির দখল নিলেও ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আইসিসির অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হয়। তবুও এখানে নারী ও যুব বিশ্বকাপের বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৭ সালে জেলা ক্রীড়া সংস্থা মাত্র ১.০১ লাখ টাকার নামমাত্র মূল্যে ৭৬৮ কোটি টাকা মূল্যের এই জমি এনএসসি-র কাছে হস্তান্তর করে। ২০২১ সালের ফিজিবিলিটি রিপোর্ট এবং ২০২৩ সালের সিভিল এভিয়েশন ও বিমানবাহিনীর ছাড়পত্র পাওয়ার পর বর্তমান সরকার প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

জরাজীর্ণ অবস্থা থেকে আধুনিকায়ন

বর্তমানে লাবণী পয়েন্টের অস্থায়ী স্টিল স্ট্রাকচার ড্রেসিংরুম ও প্যাভিলিয়নগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন:

“কক্সবাজার বিশ্বখ্যাত একটি জায়গা। আমরা স্পোর্টস ট্যুরিজমের মাধ্যমে এই সৌন্দর্যকে কাজে লাগাতে চাই। এখানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনা চ্যালেঞ্জিং হলেও আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।”

প্রকল্পটির সংশোধিত ব্যয় ও নকশা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এখন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

RELATED NEWS

Latest News