নিজস্ব প্রতিবেদক | ৭ এপ্রিল, ২০২৬
সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) গভর্নিং বডি মিটিংয়ে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের শ্রমবান্ধব নীতিমালার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (PMO) মুখপাত্র এবং উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
সুইজারল্যান্ড সফর শেষে দেশে ফিরে তিনি জানান, আগামী জুন মাসে আইএলও-র মহাপরিচালক (Director General) বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন। এছাড়া, জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে আগামী জুলাই মাসে জেনেভায় আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (ITU) আয়োজিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দেবেন।
জনশক্তি রপ্তানি: সৌদি আরবের সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্ব
সফরকালে সৌদি আরবের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানিকে বিশ্বজুড়ে ‘রোল মডেল’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:
কারিগরি প্রশিক্ষণ: বাংলাদেশের টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলোতে সৌদি আরবের সাথে যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে কর্মীদের মানোন্নয়ন।
ভাষা শিক্ষা: সৌদি আরবের কারিগরি উৎকর্ষ ব্যবহার করে কর্মীদের আরবি ভাষা শিক্ষায় শিক্ষিত করা।
সব ক্যাটাগরিতে রপ্তানি: দক্ষ, আধা-দক্ষ এবং অদক্ষ—তিন ক্যাটাগরিতেই সৌদি আরবে রেকর্ড সংখ্যক কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য।
তৃতীয় ভাষা শিক্ষা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় তরুণদের আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে ‘তৃতীয় ভাষা’ শেখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশে তরুণদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন শ্রমবান্ধব নীতির ফলে ভবিষ্যতে শ্রমিক এবং মালিকরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আইএলও-র এই প্রশংসা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে এবং শ্রম অধিকার সুরক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
