নিজস্ব প্রতিবেদক | যশোর
৬ এপ্রিল, ২০২৬
যশোরে এক নজিরবিহীন ঘটনায় এক বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার কিছুক্ষণ পরই আদালত চত্বর থেকে গ্রেফতার হয়েছেন মামলার বাদি শরিফুর আলম। সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে যশোরের জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক রাশেদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন তিনি।
শরিফুর আলম শহরের কাজীপুর এলাকার আব্দুল আজিজ রোডের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই একটি মামলার ওয়ারেন্ট (গ্রেফতারি পরোয়ানা) থাকায় তাকে আদালত চত্বর থেকেই পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগের ধরণ
বাদি শরিফুর আলমের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৪ মার্চ থেকে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি বিচারক রাশেদুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘বেআইনি আদেশ, আইনজীবীদের সাথে অসদাচরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের’ অভিযোগে আদালত বর্জনের ঘোষণা দেয়। আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতেই ওই বিচারক একতরফাভাবে বিচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বিচারের নামে যা ঘটছে (বাদির বর্ণনা অনুযায়ী):
আইনজীবী ছাড়া বিচার: আইনজীবীরা আদালত বর্জন করলেও বিচারক শুনানি বন্ধ করেননি।
সময়ের আবেদন নাকচ: গত ৩০ মার্চ শরিফুর আলম নিজের মামলায় সময়ের আবেদন জানালেও বিচারক তা নাকচ করে দেন এবং বাদির সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
একতরফা রায়: বিবাদি পক্ষের অনুপস্থিতিতেই সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করে যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করেন বিচারক।
দুর্নীতির অভিযোগ: বাদি অভিযোগ করেছেন যে, বিচারক রাশেদুর রহমান অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি দমন আইনের লঙ্ঘন করেছেন।
আইনজীবী সমিতির অবস্থান
যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফফার বলেন:
“বিচারক রাশেদুর রহমান আইনজীবীদের পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের সাথেও অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করেন। তিনি আইনি প্রক্রিয়া তোয়াক্কা না করে খামখেয়ালিভাবে একতরফা বিচার কাজ চালাচ্ছেন। একজন বিচারপ্রার্থী অতিষ্ঠ হয়ে এই মামলা করেছেন।”
নাটকীয় গ্রেফতার
জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন অভিযোগটি গ্রহণ করে আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন। এর পরপরই আদালতের সামনে থেকে পুলিশ শরিফুর আলমকে গ্রেফতার করে। শরিফুরের আইনজীবী দেবাশীষ দাস নিশ্চিত করেছেন যে, আগে থেকে থাকা একটি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
