Tuesday, April 7, 2026
Homeজাতীয়১০ বছর পর তনু হত্যা মামলায় নাটকীয় মোড়: ৩ সেনাসদস্যের ডিএনএ পরীক্ষার...

১০ বছর পর তনু হত্যা মামলায় নাটকীয় মোড়: ৩ সেনাসদস্যের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ

অবসরপ্রাপ্ত ৩ সেনাসদস্যের ডিএনএ ম্যাচিং করবে পিবিআই; এক মাসের সময় বেঁধে দিয়ে বাবার আত্মহত্যার হুমকি।

নিজস্ব প্রতিবেদক | কুমিল্লা

৬ এপ্রিল, ২০২৬

দীর্ঘ এক দশকের বিচারহীনতা ও স্থবিরতা কাটিয়ে আবারও আলোচনায় কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলা। সোমবার (৬ এপ্রিল) কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক এই মামলার সন্দেহভাজন তিন জন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের ডিএনএ (DNA) নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন।

তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর পরিদর্শক তরিকুল ইসলামের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। উল্লেখ্য যে, ঘটনার পর তনুর কাপড়ে পাওয়া তিনটি অজ্ঞাত ডিএনএ নমুনার সঙ্গে এই সন্দেহভাজনদের নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে।

তনু হত্যা মামলার এক দশকের করুণ পরিসংখ্যান

২০১৬ সালের ২০ মার্চ থেকে ২০২৬ সাল—এই ১০ বছরে বিচারের নামে কেবল কালক্ষেপণই হয়েছে বলে দাবি ভিকটিমের পরিবারের। নিচের তালিকায় মামলার দীর্ঘসূত্রিতার চিত্র তুলে ধরা হলো:

বিষয়পরিসংখ্যান / তথ্য
ঘটনার স্থানকুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাস এলাকা।
শুনানি স্থগিত৭৯ বার।
তদন্তকারী সংস্থা পরিবর্তন৩ বার।
তদন্ত কর্মকর্তা (IO) পরিবর্তন৫ বার।
ডিএনএ নমুনাতনুর পোশাকে ৩ জনের ডিএনএ পাওয়া গিয়েছিল।

বাবার কান্না ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আরজি

শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন। আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। ইয়ার হোসেন বলেন:

“লন্ডনে প্রবাস জীবনে থাকাকালীন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তনু হত্যার বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন তিনি ক্ষমতায়, আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে দেখা করে আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাইব।”

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি আগামী এক মাসের মধ্যে এই মামলার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের শনাক্ত করা না হয়, তবে তিনি “আত্মহত্যা করবেন”

পিছনের কথা

২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে টিউশনি সেরে ফেরার পথে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা থেকে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের ভেতরেই একটি ঝোপের মধ্যে তাঁর নিথর দেহ পাওয়া যায়। তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের আলামত এবং পোশাকে তিন ব্যক্তির ডিএনএ পাওয়া গেলেও গত ১০ বছরেও সেই ডিএনএ-র মালিকদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

RELATED NEWS

Latest News