নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
৬ এপ্রিল, ২০২৬
রাজধানীর কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকায় একটি অবৈধ গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মো. ইমান উল্লাহ প্রকাশকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (৬ এপ্রিল) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর আহমেদ এই আদেশ প্রদান করেন।
শনিবারের ওই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং দগ্ধ হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। পুলিশ ইমান উল্লাহর ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত এবং মামলার এজাহার অনুযায়ী, এই কারখানাটি ছিল একটি চলমান ‘টাইম বোমা’। দীর্ঘ ৮-১০ বছর ধরে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কোনো বৈধতা ছাড়াই এটি পরিচালিত হচ্ছিল।
কারখানার ভয়াবহ চিত্র:
অবৈধ পরিচালনা: গত এক দশকে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হলেও প্রভাব খাটিয়ে গোপনে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করা হতো।
বিপজ্জনক কাঁচামাল: অত্যন্ত দাহ্য এবং দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ কারখানার ভেতরে অনিরাপদ অবস্থায় মজুদ রাখা হয়েছিল, যা থেকে আগুনের সূত্রপাত।
শ্রম শোষণ: কারখানায় ৫০-৬০ জন শ্রমিক কাজ করতেন, যাদের মধ্যে একটি বড় অংশ ছিল নারী ও শিশু।
নিরাপত্তাহীনতা: আবাসিক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে দাহ্য পদার্থ নিয়ে কাজ চললেও কোনো অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না।
মামলা ও প্রধান আসামিরা
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুয়েল রানা বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে এই মামলাটি দায়ের করেন।
| নাম | ভূমিকা | বর্তমান অবস্থা |
| মো. ইমান উল্লাহ প্রকাশ (৫০) | ঘটনার মূল হোতা | ৩ দিনের পুলিশ রিমান্ডে। |
| মো. আকরাম উল্লাহ আকরাম | কারখানার মালিক | পলাতক। |
| আহনাফ আকিফ আকরাম | মালিকের ছেলে | পলাতক। |
আদালতের পর্যবেক্ষণ
আদালতে পেশ করা আবেদনে পুলিশ জানায়, আসামিরা প্রভাব খাটিয়ে এবং জোরপূর্বক আইন অমান্য করে এই মরণফাঁদ চালিয়ে আসছিল। এই অগ্নিকাণ্ড স্রেফ দুর্ঘটনা নয়, বরং অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড। নিখোঁজ আসামিদের অবস্থান এবং অবৈধ সিন্ডিকেটের তথ্য বের করতে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত জরুরি।
