সংসদ প্রতিবেদক | ৫ এপ্রিল, ২০২৬
গুম বা বলপূর্বক নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিতে বর্তমান সরকার পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জাতীয় সংসদকে আশ্বস্ত করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। রবিবার (৫ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, গুম সংক্রান্ত বিতর্কিত অর্ডিন্যান্সটি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে মূলত আইনি জটিলতা এড়াতে এবং অপরাধীদের জন্য আরও কঠোর শাস্তির পথ সুগম করতে।
আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইনে গুমের সংজ্ঞাকে ইতিমধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমান অর্ডিন্যান্সে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সাজার বিধান থাকলেও আইসিটি আইনের অধীনে এই অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর সাজার সুযোগ রয়েছে।
শাস্তির তুলনামূলক চিত্র
আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, অর্ডিন্যান্স বাতিলের মাধ্যমে গুমের অপরাধীদের জন্য সাজার মাত্রা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে:
| আইনের নাম | সর্বোচ্চ সাজা | অপরাধের গুরুত্ব |
| বিদ্যমান অর্ডিন্যান্স | ১০ বছর কারাদণ্ড | তুলনামূলক কম কঠোর |
| আইসিটি (ICT) আইন | যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ড | মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য |
ব্যারিস্টার আরমানের আবেগঘন আরজি
এর আগে, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং গুমের শিকার হওয়া থেকে ফিরে আসা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান) পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। গুম প্রতিরোধে গঠিত অর্ডিন্যান্স বাতিলের সুপারিশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন করেন, যারা নিজেরা এক সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের নেতৃত্বাধীন সরকার কীভাবে গুম প্রতিরোধের আইন বাতিলের পরামর্শ দিতে পারে?
তিনি সংসদকে অনুরোধ করেন যেন অর্ডিন্যান্সটি প্রথমে পাস করা হয় এবং প্রয়োজনে পরে সংশোধনী আনা হয়।
সরকারের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, কোনো অপরাধীকে আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের মতো হাই-প্রোফাইল গুমের ঘটনাগুলোর উদাহরণ টেনে এই অপরাধের ভয়াবহতা তুলে ধরেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অর্ডিন্যান্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যমান কাঠামোতে তদন্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা ভিকটিমদের জন্য বাড়তি হয়রানির কারণ হতে পারে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, ব্যারিস্টার আরমানসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে চলতি বা পরবর্তী অধিবেশনে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী বিল সংসদে আনা হবে।
