নিজস্ব প্রতিবেদক | ৩ এপ্রিল, ২০২৬
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা রেলওয়ে স্টেশনের কাছে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ১৮ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ পুনরায় শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে লাইনচ্যুত বগিগুলো সরিয়ে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ট্র্যাক মেরামত করার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। মনতলা স্টেশন মাস্টার আতাউর রহমান খায়রুল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী ডিজেলবাহী ট্রেনটি বুধবার রাত ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে লাইনচ্যুত হয়। এ সময় ট্রেনের অন্তত চারটি বগি রেললাইনের পাশে উল্টে যায় এবং একটি বগি পাশের খালে পড়ে যায়। ফলে সারা দেশের সঙ্গে সিলেটের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
উদ্ধার অভিযান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ
দুর্ঘটনার পর মধ্যরাতেই আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধারকাজ শুরু করে। তবে একটি বগি ব্রিজের নিচে পড়ে যাওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা চালাতে বেশ বেগ পেতে হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের একাংশ ছড়িয়ে পড়া তেল সংগ্রহের চেষ্টা করলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। হবিগঞ্জ-৫৫ বিজিবি-র ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার সৈয়দ ইশতিয়াক মোর্শেদ জানান, তারা প্রায় ১,০০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করে ড্রামে সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন, যা রাষ্ট্রীয় ক্ষতি কমিয়ে এনেছে।
একনজরে দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি ও তদন্ত
| বিষয় | তথ্য |
| দুর্ঘটনার সময় | বুধবার, রাত ৯:৩০ মিনিট |
| ট্রেনের রুট | চট্টগ্রাম থেকে সিলেট |
| ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ | ৪টি বগি উল্টে গেছে, ১টি খালে পড়েছে |
| তেল পরিবহন | প্রতিটি বগিতে ৩৯,০০০ লিটার ডিজেল ছিল |
| তেলের অপচয় | আনুমানিক ৫% থেকে ৩০% (বগি ভেদে) |
| তদন্ত কমিটি | ৫ সদস্যের কমিটি (প্রতিবেদন জমা দিতে হবে ৩ দিনের মধ্যে) |
বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
