বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক | ৩ এপ্রিল, ২০২৬
দীর্ঘ ৫২ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও চাঁদের দিকে যাত্রা শুরু করেছে মানুষ। নাসার গ্রাউন্ড কন্ট্রোল থেকে বৃহস্পতিবার আর্টেমিস-২ (Artemis II) মিশনের ৪ নভোচারীকে চাঁদের কক্ষপথে যাওয়ার জন্য চূড়ান্ত ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো মিশনের পর এটিই হতে যাচ্ছে চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম কোনো অভিযান।
নাসার ফ্লাইট ডিরেক্টর জেফ রাডিগান নভোচারীদের নিশ্চিত করেছেন যে, ওরিয়ন ক্যাপসুলের (Orion capsule) ইঞ্জিন প্রজ্বলনের মাধ্যমে নভোযানটিকে চাঁদের ট্রাজেক্টোরিতে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে মিশন ম্যানেজমেন্ট টিম। ৫ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ ইঞ্জিন বার্নটি শুক্রবার (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী) সম্পন্ন হওয়ার কথা, যা নভোচারীদের পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে বের করে তিন দিনের চন্দ্রযাত্রায় নিয়ে যাবে।
মিশনের বিস্তারিত ও নভোচারী দল
১০ দিনের এই মিশনে ওরিয়ন নভোযানটি চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে ফিরে আসবে। এই মিশনে অংশ নিচ্ছেন চারজন অভিজ্ঞ নভোচারী, যারা মহাকাশ গবেষণায় নতুন ইতিহাস তৈরি করছেন:
| নভোচারীর নাম | দেশ | বিশেষত্ব |
| রিড ওয়াইজম্যান | যুক্তরাষ্ট্র | কমান্ডার |
| ভিক্টর গ্লোভার | যুক্তরাষ্ট্র | প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ চন্দ্রাভিযাত্রী |
| ক্রিস্টিনা কোচ | যুক্তরাষ্ট্র | প্রথম নারী চন্দ্রাভিযাত্রী |
| জেরেমি হ্যানসেন | কানাডা | প্রথম অ-মার্কিন চন্দ্রাভিযাত্রী |
ছোটখাটো যান্ত্রিক ত্রুটি ও সমাধান
মহাকাশে প্রথম কয়েক ঘণ্টা নভোচারীরা বেশ ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। ওরিয়ন ক্যাপসুলের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং টয়লেটের যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিলেও দ্রুত তা সমাধান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নাসা। সংস্থাটির প্রধান জ্যারেড আইজ্যাকম্যান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (X) এক পোস্টে জানান, “নভোচারীরা চমৎকার আছেন এবং ওরিয়ন নভোযানটি তার উপবৃত্তাকার কক্ষপথে দারুণভাবে কাজ করছে।”
চীন বনাম যুক্তরাষ্ট্র: নতুন মহাকাশ যুদ্ধ
নাসার এই চন্দ্রাভিযান কেবল বিজ্ঞানের জয়যাত্রা নয়, বরং এটি চীনের সঙ্গে মহাকাশ গবেষণায় প্রতিযোগিতারও একটি অংশ। চীন ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৮ সালের মধ্যেই চাঁদে মানুষ নামানোর জন্য নাসার ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।
যদি এই মিশন সফল হয়, তবে নভোচারীরা পৃথিবী থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার মাইলেরও বেশি দূরে গিয়ে মহাকাশে মানুষের সবচেয়ে দূরযাত্রার রেকর্ড গড়বেন। এর মাধ্যমে ২০২৮ সালে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির পথ আরও প্রশস্ত হবে।
