আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২ এপ্রিল, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার দাবি করেছেন যে, ইরান যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছে। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের সন্ধি হবে না। অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই দাবিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া এই আঞ্চলিক যুদ্ধ এখন এক ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বুধবারও তেহরানে বিশাল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন:
“হরমুজ প্রণালী যখন অবাধ ও পরিষ্কার হবে, তখনই আমরা বিষয়টি বিবেচনা করব। ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা ইরানকে ধ্বংস করে দেব অথবা যাকে বলে প্রস্তর যুগে (Stone Age) ফিরিয়ে নিয়ে যাব!!!”
ইরানের কঠোর অবস্থান ও পাল্টাপাল্টি হামলা
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, কোনো আলোচনা চলছে না। বুধবারই ইরান ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ডস (IRGC) নিশ্চিত করেছে যে, তারা উপসাগরে ইসরায়েলের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আঘাত হেনেছে। এছাড়া ইসফাহান প্রদেশের একটি বিমানবন্দর এবং বেশ কয়েকটি ইস্পাত কমপ্লেক্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আঞ্চলিক ক্ষয়ক্ষতি ও বাংলাদেশি নিহত
যুদ্ধের আঁচ এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবারের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতিগুলো নিচে দেওয়া হলো:
সংযুক্ত আরব আমিরাত: আকাশপথে প্রতিহত করা একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন।
লেবানন: দক্ষিণ বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে হিজবুল্লাহর ইরাক বিষয়ক সামরিক প্রধান রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ইসরায়েল: ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ১১ বছরের শিশুসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।
ইয়ামেন: ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েল লক্ষ্য করে তৃতীয়বারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
জ্বালানি সংকট ও বিশ্ব অর্থনীতি
হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে হাহাকার শুরু হয়েছে। বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
| অর্থনৈতিক প্রভাব | বর্তমান পরিস্থিতি |
| যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম | প্রতি গ্যালন ৪ ডলার ছাড়িয়েছে (৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ) |
| ইউরোপের বাজার | মুদ্রাস্ফীতি রেকর্ড উচ্চতায়; তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব সময়ের চেয়ে ৫০% বেশি |
| ফ্রান্স ও ব্রিটেন | ফ্রান্সে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ; ব্রিটেন ৩৫ দেশের বৈঠক ডেকেছে |
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে, ইরান যদি চুক্তিতে না আসে তবে তাদের তেলকূপ, খার্গ দ্বীপের রপ্তানি টার্মিনাল এবং পানি শোধন প্রকল্পগুলো ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
