আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২ এপ্রিল, ২০২৬
গত কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর একটি টেকসই যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে চীনের মধ্যস্থতায় প্রথম দফার শান্তি আলোচনায় বসেছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। বুধবার চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শহর উরুমকিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি (AP) জানিয়েছে।
ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রথম দফার এই আলোচনা বুধবার বিকেলে শেষ হয়েছে এবং আজ বৃহস্পতিবারও তা অব্যাহত থাকার কথা রয়েছে। তবে এই আলোচনার মধ্যেই আফগানিস্তান অভিযোগ করেছে যে, পাকিস্তান তাদের ভূখণ্ডে মর্টার শেল নিক্ষেপ করেছে।
আলোচনার প্রেক্ষাপট ও প্রতিনিধি দল
আফগান সূত্র অনুযায়ী, উরুমকির এই বৈঠকে আফগানিস্তানের ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নিয়েছে। এতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২ জন কর্মকর্তা ছাড়াও প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং গোয়েন্দা সংস্থার একজন করে প্রতিনিধি রয়েছেন। চীন এই আলোচনার বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।
সীমান্তে চলমান অস্থিরতা
শান্তি আলোচনা চলাকালীনই আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশের পুলিশ মুখপাত্র ফরিদ দেহকান জানিয়েছেন, বুধবার শেষ রাতে পাকিস্তান থেকে ছোঁড়া মর্টারে ২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৪ শিশুসহ ৬ জন আহত হয়েছেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।
মূল বিবাদ ও প্রস্তাবিত সমাধান
পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান তালেবান তাদের ভূখণ্ডে পাকিস্তানি তালেবানদের (TTP) নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে। অন্যদিকে কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। পাকিস্তানের সাবেক বিশেষ দূত আসিফ দুররানি জানান, আলোচনার সাফল্যের জন্য একটি ‘ভেরিফিকেশন মেকানিজম’ বা যাচাইকরণ ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি, যাতে আফগান ভূখণ্ড পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত না হয়।
সাম্প্রতিক যুদ্ধের ভয়াবহতা একনজরে:
| সময়কাল | উল্লেখযোগ্য ঘটনা | ক্ষয়ক্ষতি (দাবি অনুযায়ী) |
| ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | পাকিস্তান কর্তৃক ‘খোলাখুলি যুদ্ধ’ ঘোষণা | ব্যাপক সীমান্ত সংঘর্ষ |
| মার্চ ২০২৬ | কাবুলের ড্রাগ ট্রিটমেন্ট সেন্টারে বিমান হামলা | আফগানিস্তানের দাবি: ৪০০+ নিহত |
| এপ্রিল ২০২৬ (বর্তমান) | চীনের উরুমকিতে প্রথম দফার বৈঠক | সীমান্তে নতুন করে মর্টার হামলা |
এর আগে কাতার, সৌদি আরব এবং ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত একাধিক শান্তি আলোচনা কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। চীনের এই নতুন মধ্যস্থতা কয়েক মিলিয়ন মানুষের জন্য স্বস্তি নিয়ে আসতে পারে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।
