আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ওয়াশিংটন
২ এপ্রিল, ২০২৬
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর গৃহীত দুটি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার অধ্যাদেশ সংশোধন বা সেগুলোর মেয়াদ শেষ হতে দেওয়ার সম্ভাব্য খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘রাইট টু ফ্রিডম’। সংস্থাটি মনে করে, এই পদক্ষেপগুলো কার্যকর হলে দেশে মানবাধিকার রক্ষার প্রচেষ্টায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, তারা দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিদের পক্ষে কাজ করে আসছে এবং ২০২৪ সালের আগস্টের পর প্রবর্তিত সংস্কারগুলোকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। বিশেষ করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ২০২৫’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫’ প্রবর্তনের জন্য তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রশংসা করেছিল। সংস্থাটির মতে, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি এই আইনগুলো ভবিষ্যতে মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ ছিল।
“এই আইনগুলোকে দুর্বল করা হলে নাগরিকরা আবারও চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। আমরা সরকারকে আহ্বান জানাই যেন এই অধ্যাদেশগুলো যথাযথভাবে বহাল রাখা হয়।”
— বিবৃতি, রাইট টু ফ্রিডম
রাইট টু ফ্রিডম আরও উল্লেখ করেছে যে, শুধু তারাই নয়, সরকারি ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষের অনেক সদস্যসহ আন্তর্জাতিক অংশীজন এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোও এই আইনগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।
বিবৃতিতে সংস্থাটি বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীদের প্রতি তাদের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, অতীতের ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হলে এই অধ্যাদেশগুলোর কার্যকারিতা বজায় রাখা অপরিহার্য। আইনগুলোকে কাটছাঁট বা অকার্যকর করা হলে তা সাধারণ নাগরিকদের আইনি সুরক্ষাকে চরমভাবে ব্যাহত করবে বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে।
