আন্তর্জাতিক ডেস্ক | লন্ডন
২ এপ্রিল, ২০২৬
ইরান যুদ্ধের প্রবাদে সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিরতা মোকাবিলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতর অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। বুধবার ডাউনিং স্ট্রিটে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ব্রিটেনের দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় স্বার্থ এখন ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ওপর নির্ভরশীল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধারাবাহিক ব্যক্তিগত আক্রমণ ও সমালোচনার মধ্যেই ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতির এই বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন স্টারমার। উল্লেখ্য যে, ইরান যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে অস্বীকার করায় ট্রাম্প স্টারমারকে ‘ভীতু’ (Cowardly) বলে অভিহিত করেছেন এবং তাকে চার্চিলের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, “স্টারমার কোনো উইনস্টন চার্চিল নন”। এমনকি ব্রিটিশ এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারগুলোকে ট্রাম্প ‘খেলনা’ হিসেবেও উপহাস করেছেন।
এসব সমালোচনার জবাবে স্টারমার বলেন, তিনি ট্রাম্পের চাপে পড়ে কোনো যুদ্ধে জড়াবেন না। বরং ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের যে ‘গভীর ক্ষতি’ হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে আসন্ন গ্রীষ্মে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইইউ-র কাস্টমস ইউনিয়ন বা একক বাজারে পুনরায় যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই।
হরমুজ প্রণালী খোলার উদ্যোগ সংবাদ সম্মেলনে স্টারমার আরও জানান, মার্কিন ও ইসরায়েলি আক্রমণের পর ইরান কর্তৃক অবরুদ্ধ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়ে ব্রিটেন এই সপ্তাহে মিত্রদের নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করবে। বর্তমানে এই উদ্যোগে ৩৫টি দেশ যুক্ত রয়েছে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেত কুপার এশিয়া-প্যাসিফিক ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে নিয়ে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন। বৈঠকে ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত যোগ দেবে বলে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে সমুদ্র থেকে ‘মাইন’ অপসারণ (Mine-hunting) এবং দ্বিতীয় ধাপে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পার করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি স্টারমারের এই অবস্থানের সমালোচনা করে বলেছে, তিনি ব্রেক্সিটের পুরনো ক্ষত পুনরায় খুঁচিয়ে তুলছেন। অন্যদিকে রিফর্ম ইউকে দাবি করেছে, বিদেশের যুদ্ধের চেয়ে জ্বালানির দাম কমানোর দিকে প্রধানমন্ত্রীর বেশি নজর দেওয়া উচিত। তবে স্টারমার অনড় থেকে বলেন, “প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির স্বার্থে আমাদের ইউরোপের সঙ্গে আরও শক্তিশালী সম্পর্ক প্রয়োজন।”
