Thursday, April 2, 2026
Homeআন্তর্জাতিক২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে ইরান যুদ্ধ শেষ হতে পারে: ট্রাম্প

২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে ইরান যুদ্ধ শেষ হতে পারে: ট্রাম্প

ইরানকে কোনো চুক্তিতে আসার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে হরমুজ প্রণালী খুলতে আরব আমিরাতের সাথে শক্তি প্রয়োগের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ওয়াশিংটন ১ এপ্রিল, ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক হামলা শেষ হতে পারে। এই সংঘাত নিরসনের জন্য তেহরানকে পূর্বশর্ত হিসেবে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।

বর্তমানে পঞ্চম সপ্তাহে পা দেওয়া এই যুদ্ধ কীভাবে শেষ হতে পারে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন থেকে আসা বিভিন্ন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যে ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করল। প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা খুব শীঘ্রই ফিরে আসব। এটি দুই সপ্তাহ, বড়জোর তিন সপ্তাহ সময় নিতে পারে। অপারেশন এপিক ফিউরি শেষ করার জন্য ইরানের সাথে সফল কূটনীতি কোনো পূর্বশর্ত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না, ইরানকে আমার সাথে কোনো চুক্তি করতে হবে না।

হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার ইডিটি সময় রাত ৯টায় প্রেসিডেন্ট ইরান পরিস্থিতি নিয়ে জাতিকে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দেবেন। এর আগে ওয়াশিংটন হুমকি দিয়েছিল যে, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়াসহ ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি কাঠামো মেনে না নেয়, তবে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুসারে, হরমুজ প্রণালী শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সহযোগিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয় যা বর্তমানে অবরুদ্ধ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরাত এই পদক্ষেপের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন চাইছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগত দ্বীপগুলো দখলের পরামর্শ দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট: এশিয়া ও আফ্রিকায় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালুর চিন্তা

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কাছ থেকে সরাসরি বার্তা পাচ্ছেন, তবে সেগুলোকে আলোচনা বলা যায় না। তার মতে, এগুলো বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমে আসা কিছু হুমকি বা মতবিনিময় মাত্র। অন্যদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস বুধবার থেকে মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যাপল এবং টেসলার মতো ১৮টি মার্কিন কোম্পানির ওপর হামলার নতুন হুমকি দিয়েছে।

যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর একজন সিনিয়র কমান্ডারকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। এছাড়া সিরিয়ার দামেস্কেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের খবর পাওয়া গেছে।

যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি গ্যালন ৪ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন ট্রাম্প। রয়টার্স ও ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশ আমেরিকান চায় যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত এই যুদ্ধ থেকে সরে আসুক। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মিত্র দেশগুলোর সাহায্য না পাওয়ার সমালোচনা করে বলেছেন, এই সংঘাত শেষে ন্যাটোর সাথে সম্পর্কের বিষয়টি পুনরায় পরীক্ষা করে দেখা হবে।

RELATED NEWS

Latest News