আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১ এপ্রিল, ২০২৬
ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালী প্রায় সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ থাকায় এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলো চরম সংকটের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক দেশ করোনাকালের মতো ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাসা থেকে কাজ করার নীতি এবং বিভিন্ন প্রণোদনা ব্যবস্থা পুনরায় চালুর কথা বিবেচনা করছে।
এশিয়ার চিত্র বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে এশিয়ায় আসে। বর্তমানে এই সরবরাহ বন্ধ থাকায় এ অঞ্চলের দেশগুলো সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস দেশটিতে ‘জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন। সরকারি অফিসগুলোতে কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনা হয়েছে। পাকিস্তান ইতিমধ্যে দুই সপ্তাহের জন্য স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং অফিস কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। শ্রীলঙ্কা তাদের জ্বালানি মজুদ ধরে রাখতে প্রতি বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জ্বালানি মন্ত্রী কিম সুং-হোয়ান গত ২৪ মার্চ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) পরামর্শ অনুযায়ী তারা গুরুত্বের সঙ্গে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালুর কথা ভাবছেন। এছাড়া দেশটিতে গোসলের সময় কমানো ও ছুটির দিনে ভ্যাকিউম ক্লিনার ব্যবহারের মতো জনসচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু হয়েছে। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর স্থগিত এবং এসি ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সিঙ্গাপুরও নাগরিকদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সরঞ্জাম ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে।
আর্থিক সহায়তা ও নীতিগত সংকট জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জনগণের ভোগান্তি কমাতে জাপান ৮০০ বিলিয়ন ইয়েন ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। নিউজিল্যান্ড নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে প্রতি সপ্তাহে ৫০ নিউজিল্যান্ড ডলার আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দাম রাখা ঠেকাতে সংসদে কঠোর আইনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে করোনাকালের সঙ্গে এবারের সংকটের মূল পার্থক্য হলো সুদের হার। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যে দুইবার সুদের হার বাড়িয়েছে। জাপান, ব্রিটেন ও ইউরোপের দেশগুলোও একই পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছে।
আফ্রিকার পরিস্থিতি আফ্রিকার দেশ মরিশাসে মাত্র ১৫ থেকে ২০ দিনের জ্বালানি তেল মজুদ আছে। কেনিয়া ও উগান্ডায় জ্বালানি ফুরিয়ে আসায় গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। দক্ষিণ সুদানে বিদ্যুৎ রেশনিং শুরু হয়েছে এবং সোমালিয়ায় তেলের দাম বাড়ায় চালকরা কাজ ছেড়ে দিচ্ছেন। নাইজেরিয়ার ধনকুবের আলিকো ডাঙ্গোটে সতর্ক করেছেন যে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আবারও করোনাকালের মতো ঘরবন্দী জীবন ফিরে আসতে পারে। তবে এই সংকটের মাঝে দক্ষিণ আফ্রিকার শিপ-রিফুয়েলিং ব্যবসা বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ অনেক জাহাজ এখন বিকল্প পথ হিসেবে কেপ অফ গুড হোপ দিয়ে যাতায়াত করছে।
