আন্তর্জাতিক ডেস্ক | জেরুজালেম
৩১ মার্চ, ২০২৬
প্যালেস্টাইনিদের প্রাণঘাতী হামলার দায়ে সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে মৃত্যুদণ্ডকে ডিফল্ট সাজা করার একটি আইন নিয়ে সোমবার ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল ইসরায়েলি পার্লামেন্টে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উগ্র ডানপন্থী মিত্রদের প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই বিলটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইসরায়েলের পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো ইতিমধ্যে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই পরিস্থিতিতে নতুন এই আইন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিলের ধারা অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৯০ দিনের মধ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে সময় বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও এতে কোনো মার্জনা বা ক্ষমার অধিকার রাখা হয়নি। অবশ্য চরম শাস্তির বদলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার একটি বিকল্প রাখা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় নেতানিয়াহু এই আইনের কিছু বিষয় নমনীয় করার অনুরোধ করেছিলেন। মূল বিলে পশ্চিম তীরের সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া অ-ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য মৃত্যুদণ্ড বাধ্যতামূলক করার কথা থাকলেও সংশোধিত বিলে যাবজ্জীবনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এই আইনের মূল পরিকল্পনাকারী উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। তিনি দাবি করেন, এই আইন ফিলিস্তিনিদের হামলা চালানো বা বন্দি বিনিময়ের উদ্দেশ্যে কাউকে অপহরণ করা থেকে বিরত রাখবে। তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের চেয়ে মৃত্যুদণ্ড অপরাধ কমাতে বেশি কার্যকর এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি এবং ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে একে ফিলিস্তিনিদের প্রতি ‘কার্যত বৈষম্যমূলক’ বলে অভিহিত করেছেন। জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, বিলে সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা অত্যন্ত অস্পষ্ট এবং বিস্তৃত রাখা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ কর্মকাণ্ডের জন্যও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বি’সেলেম (B’Tselem) জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের সামরিক আদালতগুলোতে ফিলিস্তিনিদের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার ৯৬ শতাংশ। এসব আদালতে নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায়ের ইতিহাস রয়েছে বলেও সংস্থাটি দাবি করে।
ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েল ১৯৫৪ সালে সাধারণ হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছিল। ১৯৬২ সালে নাৎসি হলোকাস্টের পরিকল্পনাকারী অ্যাডলফ আইখম্যানই ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি যাকে বেসামরিক আদালতের বিচারে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। বর্তমানে বিশ্বের ৫৪টি দেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর থাকলেও ১১৩টি দেশ এটি আইনত নিষিদ্ধ করেছে।
ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স ক্লাবের প্রধান আবদুল্লাহ আল জুঘারি বলেন, ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনিরা ইতিমধ্যে ‘ধীর গতির হত্যার’ শিকার হচ্ছেন। ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালের হামলার পর থেকে শতাধিক বন্দি মারা গেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইসরায়েলি অধিকার গোষ্ঠীগুলো ইতিমধ্যে এই আইনকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছে।
