আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ওয়াশিংটন
আপডেট: ৩০ মার্চ, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার এক চরম হুঁশিয়ারিতে জানিয়েছেন, ইরান যদি অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তবে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং তেল খনিগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব’ বলে বর্ণনা করার এবং ইসরায়েলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর ট্রাম্প এই কঠোর অবস্থান নিলেন।
সোমবার সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, শান্তি আলোচনায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে যদি কোনো কারণে দ্রুত কোনো চুক্তি না হয় এবং হরমুজ প্রণালী যদি ব্যবসার জন্য অবিলম্বে খুলে দেওয়া না হয়, তবে আমরা ইরানের সব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেল খনি এবং খার্গ দ্বীপ বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়ে আমাদের এই সফর শেষ করব। তিনি আরও জানান, লোনা পানি শোধন কেন্দ্রগুলোকেও তারা লক্ষ্যবস্তু করতে পারেন, যা এতদিন ইচ্ছা করেই স্পর্শ করা হয়নি।
মাসব্যাপী এই সংঘাতের মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এরপর থেকে এই যুদ্ধ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা হয়, যা ইরান বর্তমানে অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
এদিকে যুদ্ধের ময়দান আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইয়েমেন থেকে আসা দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং তেহরান ও বৈরুতে হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমায় ঢুকে পড়লে ন্যাটো জোটের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি ধ্বংস করে দেয়।
ইরানও তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। দেশটি সোমবার রেভল্যুশনারি গার্ডের নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য যে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবগুলো ছিল অবাস্তব, অযৌক্তিক এবং অতিরিক্ত। তিনি আরও জানান, ইরান বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র অ-প্রসারণ চুক্তি (NPT) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।
এই যুদ্ধাবস্থার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১৩.২৩ ডলারে পৌঁছেছে। এক মাসেই তেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে, যা একটি রেকর্ড। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে যে, এই যুদ্ধ সামনের সারির দেশগুলোর অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনছে। জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর অর্থ নেতারা জানিয়েছেন, তারা জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
