অর্থনৈতিক প্রতিবেদক | ঢাকা
৩০ মার্চ, ২০২৬
অভ্যন্তরীণ সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় ২০০ কোটি ডলার বৈদেশিক সহায়তা পাওয়ার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। মূলত লেনদেনের ভারসাম্য (বিওপি) স্থিতিশীল রাখতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ঋণদাতা সংস্থার কাছ থেকে এই সহায়তা চাওয়া হবে।
রবিবার মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সদর দপ্তরে অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় গভর্নর মোস্তাফিজুর রহমান এই কৌশলগত পরিকল্পনার কথা জানান। গভর্নর নিশ্চিত করেন যে, অর্থনীতিকে সুরক্ষা দিতে ইতিমধ্যে ২০০ কোটি ডলার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) অন্যান্য সম্ভাব্য উৎসগুলো যাচাই করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চিত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে গভর্নর সতর্কতামূলক নীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ (ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ) কৌশল অবলম্বন করছে।
সভায় গভর্নর মোস্তাফিজুর রহমান তার প্রশাসনের শীর্ষ তিনটি অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন। এগুলো হলো: খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা, অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (এসএমই) সহায়তা প্রদান এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা। বন্ধ কারখানাগুলোকে ‘জাতীয় সম্পদ’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি ব্যাংকগুলোকে বড় ধরনের নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি না বাড়িয়ে বরং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে এসব কারখানা সচল করার আহ্বান জানান।
আর্থিক নীতি সম্পর্কে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে গভর্নর বলেন, বর্তমানে সুদের হার কমানো সমীচীন হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল লক্ষ্য এখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য সংকট সত্ত্বেও চলতি অর্থবছর শেষে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় গত অর্থবছরের তুলনায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি ডলার বৃদ্ধি পেতে পারে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বিদেশে কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কা প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, সংকটের সময় প্রবাসীরা প্রায়ই তাদের মোট সঞ্চয় দেশে পাঠিয়ে দেন, যা স্বল্পমেয়াদে রিজার্ভ বাড়াতে সাহায্য করে। তবে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন। মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা টেনে তিনি বলেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েই আমাদের এগিয়ে যাওয়া শিখতে হবে।
