Tuesday, March 31, 2026
Homeজাতীয়গণভোট অধ্যাদেশ পাসের প্রয়োজন নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ

গণভোট অধ্যাদেশ পাসের প্রয়োজন নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ

সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গণভোটের উদ্দেশ্য ইতিমধ্যে সফল হয়েছে এবং অধ্যাদেশটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এটি আর আইনে রূপান্তর করার আবশ্যকতা নেই। আগামী ২ এপ্রিল কমিটির প্রতিবেদন সংসদে পেশ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

৩০ মার্চ, ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া গণভোটের অধ্যাদেশটি বিলে রূপান্তর করে সংসদে পাসের কোনো প্রয়োজন নেই। যেহেতু এই অধ্যাদেশের অধীনে নির্দিষ্ট কার্যক্রম ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাই এটিকে আর স্থায়ী আইনে পরিণত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রবিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদীয় বিশেষ কমিটির একটি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গণভোট অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা করেন, এই অধ্যাদেশটি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট গণভোট আয়োজনের উদ্দেশ্যে জারি করা হয়েছিল। সেই উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই অধ্যাদেশের আওতায় আর কোনো গণভোট অনুষ্ঠিত হবে না। তাই এটিকে নতুন করে অনুমোদন দিয়ে আইনে রূপান্তরের কোনো সার্থকতা নেই।

সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো অধ্যাদেশ সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে পেশ করতে হয় এবং সেটির ভাগ্য নির্ধারণ করতে হয়। তবে এই নির্দিষ্ট অধ্যাদেশটি সংবিধানের কোনো স্থায়ী অংশ ছিল না। এটি শুধুমাত্র একটি বিশেষ প্রয়োজন মেটানোর জন্য আনা হয়েছিল এবং সেই প্রয়োজন এখন শেষ।

বিশেষ কমিটির বৈঠক সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, সভায় মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে অনেকগুলো বর্তমান রূপেই পাস করা হবে, আবার কিছু অধ্যাদেশ সংশোধনীসহ বিল আকারে আনা হবে। তবে আগামী ১০ এপ্রিলের সময়সীমার কারণে সব বিল এই অধিবেশনে উত্থাপন করা সম্ভব নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশিষ্ট বিলগুলো পরবর্তী অধিবেশনে পেশ করা হবে।

বৈঠকে বিরোধী দলীয় সদস্যদের ভিন্নমতের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারি ও বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন সদস্য নির্দিষ্ট কিছু অধ্যাদেশের ওপর ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত দিয়েছেন। তাদের এই মতামতগুলো চূড়ান্ত প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে। মন্ত্রীরা যখন বিলগুলো সংসদে পেশ করবেন, তখন প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাঠের সময় সকল সদস্যই তাদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

সীমানা নির্ধারণ বা আরপিও (RPO) সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, যেসব বিষয়ের ভবিষ্যৎ প্রভাব রয়েছে, সেগুলো অবশ্যই আইনে রূপান্তর করা হবে। মানবাধিকার কমিশন বা পুলিশ সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে হওয়ায় এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বিস্তারিত জানাবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আগামী ২ এপ্রিল বিশেষ কমিটির এই প্রতিবেদনটি সংসদে উত্থাপন করা হবে।

RELATED NEWS

Latest News