নিজস্ব প্রতিবেদক | সুনামগঞ্জ
আপডেট: ২৯ মার্চ, ২০২৬
অবৈধ পথে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিস যাওয়ার পথে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চারজনসহ অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একটি রাবার বোটে টানা ছয় দিন ভাসমান অবস্থায় থেকে চরম খাদ্য ও পানীয় সংকটে তারা মারা যান বলে জানা গেছে।
নিহত চার বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাশপা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সর্দার ওরফে ময়না (৩০), একই গ্রামের আবদুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে সাহান এহিয়া (২৫) এবং রাজনগর ইউনিয়নের আবদুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮)।
গ্রিস কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওই নৌকায় থাকা যাত্রীরা ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় মারা যাওয়ার পর তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। এই পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুই সুদান নাগরিককে আটক করেছে গ্রিসের পুলিশ। তাদের সোমবারের মধ্যে ক্রিট দ্বীপের একটি স্থানীয় আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার বিকেলে তারাশপা গ্রামের বাসিন্দা ও ওই নৌকায় থাকা বেঁচে যাওয়া তরুণ রোহান আহমেদ টেলিফোনের মাধ্যমে এই হৃদয়বিদারক সংবাদটি দেশে পাঠান। রোহান জানান, সাগরে ছয় দিন আটকে থাকাকালীন খাবারের অভাবে অনেকে মারা গেছেন, যার মধ্যে দিরাইয়ের ওই চারজনও রয়েছেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য শাহনূর মিয়া রোহানের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সাহান এহিয়ার বড় ভাই মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, ভালো উপার্জনের আশায় দালালের মাধ্যমে ১২ লাখ টাকা চুক্তিতে তারা গ্রিসের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছিলেন। গত মাসে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর চুক্তির অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়। কয়েক দিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর শনিবার বিকেলে তারা এই দুঃসংবাদ পান।
দিরাইয়ের এই চার পরিবারের মধ্যে এখন শোকের মাতম চলছে। অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রার এই ভয়াবহ পরিণতির খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
