অনলাইন ডেস্ক ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়বে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিটি নাকচ করে দিয়েছে সরকার। আজ রাতে ‘সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্টস’ এর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট নিয়ে ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। একাধিক পোস্টে দাবি করা হচ্ছে যে, গণভোটের ফলাফল ‘হ্যাঁ’ হলে ইউনূস সরকার ছয় মাস পর ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। এই দাবির সঙ্গে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ফটোকার্ডও শেয়ার করা হচ্ছে, যেখানে জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলী রিয়াজের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে সরকার স্পষ্ট করেছে যে, অধ্যাপক আলী রিয়াজ অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ার বিষয়ে কোনো কথা বলেননি। বরং তিনি বলেছেন, নির্বাচনের পর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ১৮০ দিনের জন্য একটি ‘সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংবিধান সংস্কারের কাজ ক্ষমতা হস্তান্তরে কোনো বাধা তৈরি করবে না। নির্বাচিত সংসদ প্রথম দিন থেকেই সরকার গঠন, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং বাজেট প্রণয়নের মতো স্বাভাবিক কাজগুলো চালিয়ে যাবে।
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দ্বৈত ভূমিকা থাকবে। তারা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থাৎ, ক্ষমতা হস্তান্তরের পর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই সরকার পরিচালনা করবেন এবং সংবিধান সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করবেন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নয়।
আদেশের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদীয় অধিবেশন শুরুর প্রথম ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ করতে হবে। এরপর সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং সংসদ সদস্যরা কেবল নিয়মিত সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, এই আদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা ধরে রাখার কোনো নির্দেশনা নেই। বরং এটি নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা ও সংস্কার প্রক্রিয়া সমান্তরালে চালিয়ে যাওয়ার একটি আইনি রূপরেখা।
