নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ঘরে নারীর অধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী দুটি আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে ‘কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬’ এবং ‘পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬’ এর খসড়া অনুমোদিত হয়।
বিকালে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব শুচিস্মিতা তিথি এই নতুন অধ্যাদেশগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শুচিস্মিতা তিথি জানান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশটি ৪টি অধ্যায় ও ২০টি ধারায় বিভক্ত। এই আইনের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, যৌন হয়রানির সংজ্ঞাকে এখানে অত্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। শারীরিক, মৌখিক ও মানসিক হয়রানির পাশাপাশি ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত হয়রানিকেও এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে নারীরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতিনিয়ত নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। নতুন এই অধ্যাদেশ সেই বাস্তবতাকে সরাসরি মোকাবিলা করবে।
অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি নারী নেতৃত্বাধীন কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি মৌখিক, লিখিত বা অনলাইন মাধ্যমে আসা অভিযোগ গ্রহণ করবে। অভিযোগ পাওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযোগকারীর নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিশু এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা।
তদন্ত চলাকালীন তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করার বিষয়টিকে এই আইনে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে শাস্তির বিধানে রাখা হয়েছে সতর্কবার্তা, চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত বা চূড়ান্ত অব্যাহতি, বহিষ্কার এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা। তবে কোনো অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬ এর মাধ্যমে পারিবারিক পরিমণ্ডলে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপগুলোকে দেশে নারী অধিকার ও লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
