নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে জালিয়াতি ও ভুয়া কাগজপত্র দাখিল বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দেশে এবং বিদেশে সক্রিয় অসাধু দালাল চক্র এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে বাংলাদেশের ভিসা প্রক্রিয়ার ওপর বিদেশের আস্থা সংকটে পড়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। সভায় ইতালি, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতরা অংশ নেন। এ ছাড়াও বিশেষ শাখা (এসবি), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), এনএসআই, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, সম্প্রতি একটি দূতাবাস গত কয়েক মাসে ৬০০টি ভুয়া নিয়োগপত্রসহ ভিসার আবেদন পেয়েছে। অন্য একটি দূতাবাস একই এলাকা থেকে ৩০০টি পর্যটন ভিসার আবেদন পেয়েছে, যার সবগুলোর সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট ব্যাংকের ভুয়া স্টেটমেন্ট যুক্ত ছিল। এ ছাড়াও একটি ফেসবুক পেজ ৭০ জন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।
সভায় ইমিগ্রেশন পুলিশের তথ্যে দেখা যায়, গত বছর প্রতিদিন গড়ে ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। জালিয়াতির কারণে অনেক দেশ ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময় বাড়িয়ে দিয়েছে এবং একটি দেশ সাময়িকভাবে আবেদন গ্রহণ স্থগিত রেখেছে।
কূটনীতিকরা বাংলাদেশের ‘মানবপাচার ও অভিবাসী স্মাগলিং প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ’ এর প্রশংসা করেন। তবে তারা জানান, প্রধান এজেন্টরা নিবন্ধিত হলেও মাঠপর্যায়ের সাব-এজেন্টরা এখনও অনিয়ন্ত্রিত, যারা মূলত এই জালিয়াতির মূল হোতা।
সভায় ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ব্যাংক স্টেটমেন্টে কিউআর (QR) কোড ব্যবহারের বিষয়টি প্রশংসিত হয়। এ ছাড়াও বিএমইটি তাদের পদ্ধতি পুরোপুরি অটোমেশন করায় এখন থেকে কার্ডধারীদের বিদেশ গমন ও পুনরায় দেশে ফেরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।
বাংলাদেশ এখন ‘দ্য হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশন’ এর সদস্য হওয়ায় বিদেশে পাঠাতে চাওয়া কাগজপত্রের সত্যতা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য আইনি বাধ্যবাধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সভায় দালাল চক্রের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষিত পুলিশ কর্মকর্তাদের ঘনঘন বদলি না করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
