ঢাবি প্রতিবেদক ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহতের প্রতিবাদে এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার গভীর রাতে বিক্ষোভ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডাকসু সহ-সভাপতি (ভিপি) শাদিক কায়েম বিএনপির বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও খুনের রাজনীতির অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার বিএনপি এখন আর নেই, বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপিও নেই। আজকের বিএনপি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও খুনের সঙ্গে জড়িত। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষ দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ প্রত্যাশা করলেও গত দেড় বছরে বিএনপির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে শাদিক কায়েম বলেন, আপনি বলেছিলেন আপনার কাছে একটি পরিকল্পনা আছে। নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস ও দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা কি সেই পরিকল্পনার অংশ? এখনো সময় আছে, দল সংস্কার করুন এবং সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনুন।
ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ বলেন, ৫ আগস্টের পর আমরা ইতিবাচক রাজনীতির আশা করেছিলাম কিন্তু তার বদলে সহিংসতা দেখছি। তিনি অভিযোগ করেন যে, নিজেদের দলের মধ্যেই দুই শতাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। শেরপুরের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে শুধু একজন জামায়াত নেতাই নন, সেনাসদস্যরাও আহত হয়েছেন যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নির্বাচন কমিশন নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে দায় এড়াতে পারবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
ডাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মহিউদ্দিন খান বলেন, জুলাই বিপ্লব নতুন বাংলাদেশের যে স্বপ্ন দেখিয়েছিল, তা আজ হুমকির মুখে। বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি সেই স্বপ্নকে ধ্বংস করছে।
ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের বিএনপি নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন, আপনাদের পরিকল্পনা যদি জমি দখল আর নারী নির্যাতন হয়, তবে হাসিনা যে পরিণতির শিকার হয়েছেন তার জন্য প্রস্তুত থাকুন। এ সময় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে প্রশ্ন রাখেন, যদি একজন রাজনৈতিক দলের নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে?
সমাবেশ থেকে ডাকসু নেতৃবৃন্দ রেজাউল করিমের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান। একইসঙ্গে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।
