অনলাইন ডেস্ক ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় এশিয়ার বিভিন্ন অংশে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিবেশী দেশগুলো তাদের বিমানবন্দরগুলোতে আগাম স্ক্রিনিং ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
বিবিসি জানিয়েছে, থাইল্যান্ড ইতোমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সরাসরি ফ্লাইট আসা তিনটি বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করেছে। একইভাবে নেপালও কাঠমান্ডু বিমানবন্দর এবং ভারতের সাথে স্থল সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে আগতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করেছে।
ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে দুইজনের শরীরে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। আক্রান্তরা পেশায় স্বাস্থ্যকর্মী বলে জানা গেছে। তাদের সংস্পর্শে আসা ১৯৬ জনকে শনাক্ত করে পরীক্ষা করা হলেও এখন পর্যন্ত সবার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।
নিপাহ ভাইরাস মূলত প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। এই ভাইরাসে মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি, যা ৪০ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এই রোগের চিকিৎসার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিষেধক বা ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিপাহ ভাইরাসকে কোভিড ১৯ এবং জিকার মতো শীর্ষ ১০টি অগ্রাধিকারভুক্ত রোগের তালিকায় রেখেছে, কারণ এটি মহামারি সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখে। এই ভাইরাসের সুপ্তিকাল সাধারণত ৪ থেকে ১৪ দিন। সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, বমি এবং গলা ব্যথা। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি এনসেফালাইটিস বা মস্তিষ্কের প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা মৃত্যুর অন্যতম কারণ।
ভাইরাসটি সাধারণত শূকর এবং ফলভুক বাদুড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। এ ছাড়া সংক্রমিত খাবার এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শের মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায় শূকর খামারিদের মধ্যে প্রথম নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। বাংলাদেশেও ২০০১ সাল থেকে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ভারতে এর আগে ২০০১ এবং ২০০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে এবং ২০১৮ ও ২০২৩ সালে কেরালা রাজ্যে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল।
বর্তমানে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় জনস্বাস্থ্যমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিকে থাইল্যান্ডে আগত যাত্রীদের স্বাস্থ্য ঘোষণা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নেপাল তাদের সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। অন্যদিকে তাইওয়ান নিপাহ ভাইরাসকে তাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ‘ক্যাটাগরি ৫’ ভুক্ত রোগ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে এর দ্রুত রিপোর্টিং ও বিশেষ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।
