নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী এবং কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের অপেক্ষায় ছিলেন হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক। খোলা আকাশের নিচে হালকা আলোয় তীব্র শীত উপেক্ষা করে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন তারা। দোকানপাট আগেভাগেই বন্ধ হয়ে যায়, নারীরা তাদের সন্তানদের নিয়ে উপস্থিত হন এবং কর্মীরা ঠান্ডার মধ্যেই খাবার ভাগ করে নেন। চট্টগ্রাম, ফেনী ও কুমিল্লায় ধারাবাহিক সমাবেশের পর যখন তারেক রহমান মঞ্চে উপস্থিত হন, তখন অনেক স্থানেই সময় মধ্যরাত পেরিয়ে গেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নেতার আগমনে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে উপস্থিত জনতা।
নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বালুরমাঠে তৈরি করা হয়েছিল অস্থায়ী মঞ্চ। রাতভর স্লোগান দিয়ে ও প্ল্যাকার্ড হাতে অপেক্ষা করেন সমর্থকরা। রাত প্রায় ২টার দিকে তারেক রহমান সেখানে পৌঁছান।
দেরির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারেক রহমান বলেন, “নারায়ণগঞ্জের অন্তত ২০টি স্থানে মাদক বিক্রি হয়।” তিনি দুর্নীতি দমন ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি কর্মী কবির হোসেন বলেন, “আমরা সারা রাত অপেক্ষা করেছি শুধু আমাদের নেতার বক্তব্য শোনার জন্য। তার শান্ত ও মানবিক কথা আমাদের হৃদয় জয় করেছে। তিনি নারায়ণগঞ্জের মাদকের হটস্পটগুলোর সঠিক সংখ্যাও জানেন। এটি প্রমাণ করে যে তিনি কেবল কেন্দ্রের দিকেই মনোযোগী নন, আমাদের স্থানীয় বাস্তবতার খোঁজও রাখেন।”
নরসিংদীতে পৌর শিশু পার্কটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। সন্ধ্যা থেকে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হতে থাকেন, যেখানে তারেক রহমান পৌঁছান রাত আড়াইটায়।
মনোবল চাঙ্গা রাখতে জেলা নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং কর্মীরা খোলা জায়গায় খাবার ভাগ করে নেন। সংহতির পরিবেশে নারী ও শিশুদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তীব্র যানজট উপস্থিতির ব্যাপকতা নির্দেশ করে, যা আনুমানিক ৫ থেকে ৬ হাজার বলে ধারণা করা হয়।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ১৪
স্থানীয় বাসিন্দা হাতেম তাই বলেন, “যদিও তার সন্ধ্যা ৭টায় পৌঁছানোর কথা ছিল, তিনি রাত আড়াইটায় পৌঁছেছেন। তবুও আমাদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি।” নরসিংদী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরীফ আহমেদ মন্তব্য করেন, “সন্ধ্যায় উপস্থিতি বেশি ছিল, যা পরে কিছুটা কমে যায়। কিন্তু তার বক্তব্য শুরু হতেই চারপাশ থেকে আবার জনস্রোত আসতে শুরু করে, যা দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে।”
কুমিল্লায় তারেক রহমান চৌদ্দগ্রাম, সুয়াগাজী এবং দাউদকান্দিতে সমাবেশে ভাষণ দেন। সন্ধ্যার জন্য নির্ধারিত থাকলেও আগের কর্মসূচিগুলোর কারণে তার বক্তব্য শুরু হতে গভীর রাত হয়ে যায়। সুয়াগাজীর ফুলতলী মাঠে তিনি রাত ১০টা ৪৬ মিনিট থেকে ১১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত কথা বলেন এবং এরপর মধ্যরাতের পর দাউদকান্দির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
শীত সত্ত্বেও নারী ও শিশুসহ সমর্থকরা খোলা মাঠে অপেক্ষা করেন। কুমিল্লা ও চাঁদপুরের দূরদূরান্তের উপজেলা থেকে অনেকে এসেছিলেন। সমর্থকদের খাবার ও টয়লেটের সংকটের মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হলেও তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশংসা করেছেন।
শাকতলা থেকে আসা পলি জানান, খোলা জায়গায় শীত আরও বেশি অনুভূত হচ্ছিল। তবে মঞ্চের কাছে বাঁশের ব্যারিকেডের পেছনে চেয়ার থাকায় তিনি তুলনামূলক আরামদায়ক স্থানে বসতে পেরেছিলেন। পিপুলিয়া থেকে আসা আনিস তার ১১ বছরের ছেলে নাঈমকে নিয়ে বিএনপি প্রধানকে দেখতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, “আমরা এত দূর থেকে এসেছি; তাকে না দেখে আমরা যাব না।”
