নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর রমনা সদর দপ্তরে গত শনিবার ‘ইকুয়ালিটি ইন দ্য ওয়ার্কপ্লেস ফর ইঞ্জিনিয়ার্স: হিউম্যান রাইটস, জেন্ডার বেসড ভায়োলেন্স অ্যান্ড জাস্টিস’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইইবি-র উইমেন ইঞ্জিনিয়ার্স চ্যাপ্টার (ডব্লিউইসি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইইবি সভাপতি ও রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রাজু) বলেন, কর্মক্ষেত্রে সমতা কেবল নীতিমালার কাগজে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, এর প্রতিফলন থাকতে হবে দৈনন্দিন চর্চায়। তিনি উল্লেখ করেন, প্রকৌশলীরা দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, কিন্তু পেশার অভ্যন্তরে বৈষম্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়কেই দুর্বল করে দেয়। হয়রানি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইইবি-র মতো পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম তার বক্তব্যে প্রকৌশল খাতে নারী প্রকৌশলীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারী প্রকৌশলীদের থেকে আমরা শক্তিশালী পেশাদার সমর্থন পাই। তাদের পেশাগত বিকাশে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে আইন মন্ত্রণালয়ের জেলা ও দায়রা জজ লুব্না জাহান জানান, ভয় ও সামাজিক মর্যাদাহানির আশঙ্কায় কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঘটনাগুলো অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়। তিনি ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক আইনি প্রক্রিয়া এবং গোপনীয়তা বজায় রেখে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেন।
অন্যতম মূল বক্তা বাংলাদেশ পুলিশের পুলিশ সুপার নুসরাত জাহান মুক্তা বলেন, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি বা সহিংসতাকে ব্যক্তিগত বা অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একটি অপরাধ এবং সামাজিক সমস্যা। অপরাধীকে সুরক্ষা না দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহযোগিতা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা প্রকৌশল খাতের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সোলারিক গ্রুপের পরিচালক প্রকৌশলী নাজনীন আক্তার বেসরকারি খাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরির কথা বলেন। তিতাস গ্যাসের ডিজিএম প্রকৌশলী মুহাম্মদ আব্দুল কাউসার ইথিক্যাল ট্রেনিং বা নৈতিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন। এছাড়া আইইবি-র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান এবং সহ-সভাপতি প্রকৌশলী খান মঞ্জুর মোর্শেদ প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা ও জেন্ডার সেনসিটিভিটি বিষয়ে আলোচনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইইবি-র সহ-সভাপতি প্রকৌশলী এ টি এম তানবীর-উল হাসান (তামাল) এবং প্রকৌশলী নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া মানবাধিকার রক্ষায় ধর্মীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন। সহ-সভাপতি প্রকৌশলী শেখ আল আমিন আইইবি-র নির্বাহী কমিটিতে নারী প্রকৌশলীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ডব্লিউইসি-র ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী দিলরুবা ফারজানা। অনুষ্ঠানে প্রয়াত প্রকৌশলী মুনমুন খানের স্মরণে একটি বিশেষ অংশ পরিচালনা করেন প্রকৌশলী ফারিহা ইসলাম মৌ। এছাড়া ২০২৫ সালে ডব্লিউইসি-র কার্যক্রমের স্মৃতিচারণ এবং নারী উদ্যোক্তাদের স্টল পরিদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রকৌশলী নাজিফা আনজুম নাবিলা ও প্রকৌশলী রিমি রশিদ।
