বাহুবলে ভাই-ভাতিজাকে ফাঁসাতে শিশুকন্যাকে খুন করে পাষন্ড পিতা

নিজস্ব প্রতিনিধি ॥ বাহুবলে সাড়ে ১১ মাস পর দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়–য়া নাঈমা হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পাষন্ড পিতা ফরিদ মিয়া নিজেই কন্যা নাঈমাকে হত্যা করেছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বাহুবল সার্কেল অফিসে সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরী এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের তথ্য প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সার্কেল অফিসের ইন্সপেক্টর বিশ্বজিৎ দেব, বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাসুক আলী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সেলিম হোসেন। গত বছরের ৯ আগস্ট উপজেলার সোয়াইয়া গ্রামের ফরিদ মিয়ার কন্যা স্থানীয় সোয়াইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির ছাত্রীর লাশ বাড়ির পাশের খালের পাড়ে কচুরিপানার নিচ থেকে উদ্ধার করে পাষন্ড পিতা
পুলিশ। ঘটনার প্রায় একমাস পর ৬ সেপ্টেম্বর নিহতের পিতা ফরিদ মিয়া বাদী হয়ে আদালতে তার ভাই-ভাতিজাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে বাহুবল থানা পুলিশ। দীর্ঘ তদন্তকালে পুলিশ মামলার বাদীকেই সন্ধেহ করতে থাকে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে বাদী ফরিদ মিয়া গা-ঢাকা দেয়। অবশেষে গত ১৩ জুলাই মামলার বাদী ফরিদ মিয়াকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। এক পর্যায়ে ফরিদ মিয়া হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দ্বী প্রদান করে। পরদিন পুলিশ তাকে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম মোছাঃ শাহিনুর আক্তার-এর আদালতে হাজির করা হলে সেখানেও সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দ্বী প্রদান করে। পাষন্ড ফরিদ মিয়া পুলিশ ও আদালতকে জানায়, তার ভাই ও ভাতিজাদের সাথে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘ বিরোধ রয়েছে। এ বিরোধের জের ধরে তারা তাকে দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার-নির্যাতন করে আসছে। গত বছর ৮ আগস্ট সোয়াইয়া বাজারে ফরিদ মিয়াকে তার ভাই-ভাতিজারা মারধোর করে। এ সময় তারা তাকে হুমকি দেয়। ভয়ে ওই রাতে ফরিদ মিয়া আর বাড়ি ফিরেনি। সোয়াইয়া বাজারেই রাত্রিযাপন করে। শুকুর মিয়া ও তার পুত্রদের সাথে পূর্ব বিরোধ থাকা একই গ্রামের সমরাজ মিয়ার পুত্র সাজন মিয়া এগিয়ে এসে ফরিদ মিয়াকে কু-প্ররোচনা দেয়। উভয়ে মিলে প্রতিপক্ষ শুকুর মিয়া ও তার পুত্রদের ফাঁসানোর পরিকল্পনা তৈরি করে। ৯ আগস্ট ফরিদ মিয়ার কন্যা মাতৃহারা নাঈমা আক্তার শামীমার ছিল দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা। সে দুপুর ২টার পর পরীক্ষা শেষে সোয়াইয়া বাজারে তার পিতা ফরিদ মিয়ার সাথে দেখা করে। এ সময় ফরিদ মিয়া তাকে চকলেট কিনে খাওয়ায়। এক সময় বাড়ি ফিরে নাঈমা আক্তার। তার এক ভাই ও এক বোন স্কুল এবং মাদরাসায় এবং এক ভাই প্রবাসে থাকায় নাঈমা নিজেই দুপুরের খাবার খায়। এ সময় তাদের ঘরে আসে সাজন মিয়া। তাকে রেখেই নাঈমা বাড়ির পুকুরে যায় থালা-বাসন পরিষ্কার করতে। কিছুক্ষণ পর ফরিদ মিয়া ঘরে ফিরে নাঈমাকে বাড়ির পাশের একটি নিচু জায়গায় ডেকে নেয়। সেখানে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা সাজন মিয়া একটি ছেড়া মশারির টুকরো নাঈমার গলায় পেছিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। ফরিদ মিয়া সাথে সাথে নাঈমার দু’পা চেপে ধরে। এক পর্যায়ে নাঈমার মৃত্যু নিশ্চত হলে তারা লাশ পার্শ্ববর্তী খালের পাড়ে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখে। বিকেল ৫টার দিকে গ্রামের লোকজন নাঈমার লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেয়। এক প্রশ্নের জবাবে সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরী জানান, হত্যাকান্ডের পরপরই ফরিদ মিয়ার সাথে যোগাযোগ ছিন্ন করে সাজন মিয়া বিদেশ ফাঁড়ি জমানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে উঠে। এ অবস্থায় ফরিদ মিয়া আদালতে মামলা দায়েরের সময় সাজন মিয়াকেও হত্যা মামলার আসামী হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করে। তিনি জানান, নাঈমা হত্যার অন্যতম হোতা সাজন মিয়া বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *