মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ। একাত্তরের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বলেন, ‘এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা। আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন।’ সেই থেকে শুরু। এরপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্বিচার হত্যা, ধ্বংস ও পৈশাচিকতার বিরুদ্ধে ৯ মাসের মরণপণ লড়াইয়ে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদানের বিনিময়ে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের। মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে জাতি আজ ৪৮তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করবে। এ বছর মহান স্বাধীনতার ৪৮ বছর পূর্তি হওয়ায় দিবসটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। জাতিসংঘ কর্তৃক বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্দ করে দেয়ার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলার মাধ্যমে বাঙালি জাতির জীবনে যে বিভীষিকাময় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল, দীর্ঘ ৯ মাসে মরণপণ লড়াইয়ের মাধ্যমে বাংলার দামাল সন্তানরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে সে যুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে। ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে পাকিস্তানী সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে নির্বিচারে বাংলার বেসামরিক লোকজনের ওপর গণহত্যা শুরু করে। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল সকল রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং সকল সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা। সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের আগে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং যে কোন মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মূহূর্তের মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়। যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন উপলক্ষে জাতীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটির দিন। এদিকে হবিগঞ্জে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ছাড়াও জেলা প্রশাসন দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বন্নির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা, সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দুর্জয় হবিগঞ্জে পুষ্পস্তবক অর্পন, সকাল ৮টায় জালাল স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ ও শরীর চর্চা প্রদর্শনী, সকাল সাড়ে ১০টায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও বালকদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, মহিলাদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক আলোচনা সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সকাল ১১টায় শিশুদের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংশ্লিষ্ঠ সংস্থার সময় অনুযায়ী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুষ্ঠান, হাসপাতাল, জেলখানা, এতিমখানা, শিশু পরিবারে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, জাতির সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনায় মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও প্রার্থনা, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্য এবং উন্নয়ন অগ্রগতি শীর্ষক আলোচনা সভা এবং রাত ৮টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *