চুনারুঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের তা-ব থামেনি ॥ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চুনারুঘাট উপজেলার চা বাগান ও বনাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে সংঘবদ্ধ চক্র। ফলে জেলার দক্ষিণাঞ্চলের চা-বাগান ও বনাঞ্চল এবং টিলা ধসে পড়ার আশংকা করা হচ্ছে। গতকাল রবিবার আমতলি বাজারের দক্ষিণ পাশের একটি বালুর স্তুপে অভিযান চালান সহকারি কমিশনার (ভূমি) তাহমিনা আক্তারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত। এ সময় ৭শ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো আলী আকবর নামের এক বালু ব্যবসায়ীর নিকট ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন সার্ভেয়ার মনিরুজ্জামান ও অফিস সহকারি গোলাম রাব্বানী। একটি প্রভাবশালীচক্র লীজের নাম করে অবৈধ উপায়ে বাগানের পাহাড় কেটে আর ছড়া থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করে যাচ্ছে। এতে কতিপয় ব্যক্তি লাখ লাখ টাকার মালিক হলেও পরিবেশ হচ্ছে ভারসাম্যহীন। বাগানগুলোও দিন দিন হুমকির মুখে পতিত হচ্ছে। ছড়া অথবা পাহাড় কেটে মাটি ও বালু অপরিকল্পিতভাবে উত্তোলন করে বিক্রির জন্য স্তুপ করে রাখা হয়। পরে এগুলো ট্রাক, ট্রাক্টর ও ট্রলি যোগে বিভিন্ন স্থানে দিন ও রাতের বেলা সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এদিকে দিনের বেলায় চুনারুঘাট পৌর শহরের উপর দিয়ে ট্রাক ও ট্রাক্টরযোগে বালু নিয়ে যাবার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ যানজট। ফলে বেড়েছে জনদূর্ভোগ। জানা যায়, সবচেয়ে বেশি বালু উত্তোলন করা হচ্ছে সুতাং নদীর আমতলি, মুড়িছড়া,্ ইছালিয়া ছড়া, করাঙ্গি, খোয়াই চা-বাগানের বদরগাজি ছড়ায়। এখানে বালু উত্তোলন করে রাস্তার পাশে সাজিয়ে রাখা হয় বিক্রির জন্য। পরে সাজানো স্তুপ থেকে বিভিন্ন যানবাহনযোগে বালু বোঝাই করে হবিগঞ্জ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবির চুনারুঘাটের এক সভায় অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু এরপরও বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। সূত্র জানায়, ভারত থেকে প্রবাহিত হওয়া বিভিন্ন ছড়ার মিলন হয়েছে সুতাং ও খোয়াই নদীতে। বারো মাস পানি প্রবাহিত হলেও বর্ষা মৌসুমে হঠাৎ গর্জে উঠে ছড়াগুলো। এ সময় ছড়ায় পানি থৈ থৈ করে। গ্রামবাসি ছড়া থেকে মাছ শিকার করেন। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করায় ছড়াগুলো বিলীন হতে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *