৪০ লাখ টাকা মূল্যের বড়কাকনী-ছোটকাকনী গ্রুপ জলমহাল ২ লাখ টাকায় নিলাম বিক্রি স্থগিত

আদালতের আদেশের পর জলমহালের ক্ষতি হলে দায়ভার বহন করতে হবে ওসিকে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়া ইউনিয়নের বড়কাকনী-ছোটকাকনী গ্রুপ জলমহাল বিক্রির নিলাম স্থগিত করে দিয়েছেন আদালত। ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ওই জলমহাল ২ লাখ টাকায় নিলামে বিক্রি করে দিয়েছিলেন হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি মোঃ ইয়াছিনুল হক। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ওই জলমহালের ইজারাদার ইউনিটি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্যদের কোন নোটিশ না দিয়েই থানার ওসি জলমহালটি নিলামে বিক্রি করে দেন। গতকাল সোমবার সমিতির সম্পাদক তাহের আলীর দায়েরকৃত আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা দায়রা জজ জলমহাল বিক্রির নিলাম স্থগিতের আদেশ প্রদান করেন। উক্ত আদালতে ফৌজদারী রিভিশন মামলা আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি শুনানীর তারিখ ধার্য্য রয়েছে। ওই তারিখে শুনানীর আগ পর্যন্ত জলমহাল বিক্রির নিলাম স্থগিত থাকবে।

এ ব্যাপারে সমিতিপক্ষের আইনজীবি ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজন জানান, যেহেতু বিজ্ঞ দায়রা জজ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিলামের উপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেছেন সেহেতু উক্ত জলমহাল নিলাম দেয়া হলেও এর কার্যকারিতা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তিনি আরো জানান, বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালতের আদেশের পরেও যদি কেউ ওই জলমহাল থেকে মাছ ধরে নিয়ে যায় বা এর কোন ক্ষতিসাধন করে তাহলে এর দায়-দায়িত্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেই বহন করতে হবে। জানা যায়, ওই মৎস্যজীবি সমিতি ১৪২০-১৪২৫ বাংলা সনের জন্য উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মন্ত্রনালয় থেকে জলমহালটি ইজারা নেয়। প্রতি বছর খাজনা পরিশোধ করে জলমহালে দল, বাঁশ ও কাঠা ফেলে মৎস্য চাষ করে আসছেন সমিতির লোকজন। বর্তমানে মাছ আহরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সমিতির সদস্যরা। এ ব্যাপারে তারা যাবতীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছেন। এদিকে ওই জলমহালটির কাগজ তৈরি করে মালিকানাধানা দাবি করেন একই এলাকার নুর মিয়া নামের এক ব্যক্তি। এ ব্যাপারে নুর মিয়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। গত ৩০/১১/২০১৭ইং তারিখে আদালত ওই জলমহালে শান্তিশৃংখলা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ওসিকে জলমহালের রিসিভার নিয়োগ করেন। পরবর্তীতে ৪/১২/২০১৭ইং তারিখে দ্বিতীয় পক্ষ ইজারা গ্রহীতা সমিতির পক্ষে রিসিভার নিয়োগের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এ প্রেক্ষিতে নুর মিয়া জেলা জজ আদালতে ফৌজদারি রিভিশন দায়ের করেন এবং আদালত তা স্থগিতের আদেশ দেন। এ অবস্থায় হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি মোঃ ইয়াছিনুল হক ওই জলমহালটি মাত্র ২ লাখ টাকায় নিলামে বিক্রি করে দেন। ওসি জানান, উক্ত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, জলমহাল নিলামের বিষয়টি তাদেরকে জানানো হয়নি। তারা আরো বলেন, ওই জলমহালে ইতোমধ্যে তাদের কম করে হলেও ১৫ লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে। জলমহাল নিলামে দেয়ায় তারা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এদিকে নিলামে বিক্রির পর জলমহালে মেশিন দিয়ে পানি সেচের ঘটনা নিয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে সমিতির সদস্য অলি মিয়ার উপর হামলা করা হয়। এ ঘটনায় অলি মিয়া টেটাবিদ্ধ হন। উভয়পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়। জলমহাল নিলামে দেয়ার ঘটনা নিয়ে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় আরো ভয়াবহ সংঘর্ষের আশংকা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *